লক্ষ্মীপুরের চররুহিতায় স্বর্ণলংকারও নগদ টাকা নিয়ে প্রবাসির স্ত্রী উধাও

বিশেষ প্রতিনিধি ।।

লক্ষ্মীপুরে পরকিয়ায় লিপ্ত হয়ে স্বামীর স্বর্ণলংকারও নগদ টাকা নিয়ে মিলন ড্রাইবারের হাত ধরে উধাও হয়েছে ৪নং চররুহিতা ইউনিয়নের বাসিন্দা কুয়েত প্রবাসি মাহফুজের স্ত্রী জান্নাতুল আক্তার প্রীতি।

জান্নাতুল আক্তার প্রীতি, পিতা-জামাল মিকার, ৩নং ওয়ার্ড, ৪নং চররুহিতা ইউনিয়ন, সদর : লক্ষ্মীপুর। অপরদিকে মিলন ড্রাইভার ৬ নং ওয়ার্ড ৪ নং চররুহিতা, ইউনিয়ন, সদর লক্ষ্মীপুর।

এ বিষয়ে জান্নাতুল আক্তার প্রীতি সহ ৪ জনকে বিবাদি করে ২৬ মার্চ ২০২১ শুক্রবারে লক্ষ্মীপুর মডেল থানা অভিযোগ দায়ের করেন প্রবাসি মাহুফুজের মা জাহানারা বেগম (৭০)।

গণমাধ্যমকর্মীরা লক্ষ্মীপুর সদর থানা এ এস আই সোহেলের কাছে প্রীতি ও মিলনের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন , জাহানারা বেগম নামে এক মহিলা একটি অভিযোগ করেছেন জান্নাতুল আক্তার প্রীতি সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত চলছে।

অভিযোগ সুত্রে সরোজমিনে গেলে বাদি জাহানারা বলেন, তার ছেলে মাহফুজ বিদেশ থাকার সুবাধে তার ছেলে বউ জান্নাতুল আক্তার প্রীতি প্রতিবেশী মিলন ড্রাইবার নামে ব্যক্তির সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে। তারই জের ধরে গত ২৪/০৩/২০২১ সালে বুধবার রাতে মিলন ড্রাইবারের সাথে পালিয়ে যায়।

বাদি মাহফুজের মা আরো বলেন, মিলন ডাইভারের গাড়ি চালাত জান্নাতুল আক্তার প্রীতির ভাই রুবেল।রুবেলের সাথে মিলন ড্রাইভের সব সময় আসা যাওয়া করত ঢাকার বাসাতে।

মাহফুজের মা বলে, মিলন ছেলেটাও আমাদের প্রতিবেশী ছেলে।শেষে আমাকেও আমার প্রবাসী ছেলে মাহফুজ কে ফোন দিয়ে বলে, সে নাকি বড় বিপদে আছে। তার স্ত্রী তার নামে মামলা দিয়ে ওয়ারেন্ট করিয়েছে৷ পুলিশ তাকে খুঁজছে, যখনই পাবে অ্যারেস্ট করে ফেলবে। একটা ছেলে একটা মেয়েকে নিয়ে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় সাহায্য চেয়ে ছিল, আমরা তাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম।মিলন সবসময় প্রীতিকে ভাতিজি বলে ডাকত। প্রীতি ও মিলন ড্রাইভারকে সবসময় কাকা বলে ডাকতো।অথচ এদের মধ্যে ভিতরে ভিতরে এমন কিছু হলো যা আমরা কখনো জানতে পারিনি।

বিবাদী জান্নাতুল আক্তার প্রীতি ও মিলনের পরকিয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় পরিবারের লোকজন প্রীতিকে একাধিক বার বুঝানো হয়। কিন্তু বিবাদি প্রীতি কাউকে তোয়াক্কা না করে যেখানে সেখানে ছুটে গিয়ে মিলনের সাথে অবাধে চলাফেরা করতো বলে অভিযোগ করেন মাহফুজের মা জাহানারা বেগম।

মাহফুজের মা আরো বলেন, আমার এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় আমি বাড়িতে আসার পর একপর্যায়ে মাস খানেক পুবেই স্বণারংকার নগদ টাকা, বাসার সকল আসবাপপত্র নিয়ে জান্নাতুল আক্তার প্রীতি আমাদের সবার অজান্তে তার বাবার বাড়ীতে চলে যায়। প্রীতি বাবার বাড়ী থাকার সুবাধে পরকিয়া প্রেমিক মিলনের সাথে শুক্রবার রাতে পালিয়ে যায়। এতে প্রীতি বাবা জামাল মিকার ও তার স্ত্রীর যোগসাজশ রয়েছে বলে জানান বাদী জাহানারা বেগম।

এদিকে জান্নাতুল আক্তার প্রীতির বাবা জামাল মিকার বলেন, শুক্রবার ভোর রাতে উঠে দেখে তার মেয়ে ঘরে নেই। তার মেয়ে কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকরে কোন সুদুত্তর দিতে পারেননি।

এলাকাবাসি সুত্রে জানাযায়, জান্নাতুল আক্তার প্রীতি এর পুর্বে প্রবাসি আব্দুর রব কে বিয়ে করে ঐ সংসার ভেঙে সেখান থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নিয়ে বাবার বাড়ীতে চলে আসে। কিছুদিন যেতে না যেতেই পাশবর্তী প্রবাসি মাহফুজকে বুলিয়ে বালিয়ে প্রেমের বন্ধনে ফেলে ২০১৮ সালে বিয়ের পিড়িতে বসেন জান্নাতুল আক্তার প্রীতি। মাহফুজ বিদেশ যাওয়ার সময় তার স্ত্রী প্রীতির অনুরোধক্রমে ঢাকা বাসা ভাড়া নেন। সেখানে তার মা ও স্ত্রী বসবাস করতো। তারই সুবাধে প্রীতির আপন ভাই রুবেল মাঝে মধ্যে মিলনকে ঐ বাসা নিয়ে যেত।

আরো জানা যায়, রুবেল আর মিলন চাচা ভাতিজা। সে আলোকে প্রীতি মিলনকে চাচা ডাকতো। তাই মাহফুজের মা কোন মাইন্ড করতো না। কিন্তু ড্রাইবার মিলন, সবসময় ভায়াটিয়া নিয়ে মাইক্রোবাস যোগের ঢাকা আসা যাওয়ার সুবাধে ঢাকায় প্রীতির বাসায় ঘনঘন আসা যাওয়া করতো। এতে মিলন ও প্রীতি চাচা ভাতিজি মধ্যে পরকিয়ার সম্পর্ক জরে ধরে মিলন তার স্ত্রীকে ডিপোস্ট দেয়। মিলনের স্ত্রী মিলনের বিরুদ্ধে মামলা করলে মিলন তার দুই সন্তান নিয়ে ঢাকা প্রীতির বাসায় উঠে।

মিলনের প্রতিবেশীরা বলেন, মিলন একজন দুশ্চরিত্রের লোক।তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে কোটে ও থানায়। ছোটখাটো বিষয় নিয়েও রয়েছে তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ।

মিলনের সন্তান হামিম সাংবাদিকদের বলেন, তার বাবা মিলন প্রীতির সাথে ঘুমাতো, গোসল করতো। তারা তাদের মায়ের কথা বললে, মিলন বলতো তোদের মা আসবে অপেক্ষা করো।

মিলনের স্ত্রী আছিফা খাতুন বলেন, ২০০৮ সালে তাদের বিয়ে হয়ে। তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। কয়েকমাস পুর্বে ঢাকা প্রীতি নামে এক মহিলার সাথে খারাপ সম্পর্ক জড়িয়ে পড়ে তার স্বামি মিলন । এই নিয়ে তাদের সংসারে জগড়া ঝামেলা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মিলন আমাকে ডিপোস্ট দেয় । এতে মিলনকে বিবাদি করে মামলা দায়ের করি। কয়েকমাস পর মিলন পুনরায় আমাকে ১৯/০৩/২০২১ সালে বিয়ে করে পুনরায় ঘরে তুলে নেয়। এখন বিভিন্ন ভাবে জানতে পারি বুধবার রাতে মিলনের সাথে প্রীতি পালিয়ে যায়।

এই বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে মিলন ড্রাইবার বলেন, তার বিরুদ্ধে জান্নাতুল আক্তার প্রীতিকে নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য নয়।