হেফাজতের মামুনুলের কাছে ‘ক্ষমা না চাওয়ায়’ সাংবাদিককে মারধর,বাড়ি ভাঙচুর

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা ।।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে নারীসহ হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করার ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া স্থানীয় সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়েছে হেফাজতের নেতা-কর্মীরা। মারধরের পর তার বাড়িঘরে ভাঙচুর করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত সোমবার রাতে উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের ভাটিরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মামুনুল হকের দাঁড়ি ধরে টান দেওয়ার অভিযোগ তুলে সাংবাদিকের ওপর হামলা করা হয়। আহত ওই সাংবাদিককে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।হাবিবুর রহমান চ্যানেল এস নামের একটি বাংলা টেলিভিশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার(৬ এপ্রিল) দুপুরে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৭০-৮০ জন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জানা যায়, সোনারগাঁ পৌরসভার দিঘিরপাড় এলাকায় রয়্যাল রিসোর্টে গত ৩ এপ্রিল বিকেলে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে স্থানীয়রা এক নারীসহ অবরুদ্ধ করে রাখে। ওই সময় স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করে ফেসবুকে লাইভ করেন। এসময় চ্যানেল এস নামের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সোনারগাঁ প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান মামুনুল হকের দাঁড়ি ধরে টান দিয়েছে এমন অভিযোগ তোলা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় হেফাজতের নেতা-কর্মীরা তাকে ওই সময় থেকেই মারধরের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নিজেকে আত্মগোপন করে রাখেন। গত সোমবার রাতে তিনি সনমান্দি ইউনিয়নের ভাটির চর গ্রামে নিজ বাড়িতে গেলে ওই এলাকার হেফাজতের নেতা-কর্মীরা বাড়িতে হামলা করে। এসময় তাকে মারধর করে ঘরের বাইরে নিয়ে আসে। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষমা চাইতে বলে মামুনুলের কাছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, মামুনুলের অনুসারীরা সাংবাদিক হাবিবকে লাঞ্ছিত করছে। তাদের মধ্যে একজন বলছেন, হুজুরের (মামুনুল হক) কাছে মাফ চাইতে হবে, হুজুর যাতে আপনাকে ক্ষমা করে দেয় এজন্য। আরেকজন বলেছেন, আপনি বলবেন, হুজুরের (মামুনুল হক) কাছে আমি ক্ষমা চাই। সাংবাদিক হিসেবে সেখানে গিয়ে ভুল করেছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। তাদের কথা মতো ক্ষমা না চাওয়ায় সাংবাদিক হাবিবকে টেনে-হেঁচড়ে মারধর করে সড়কের পাশে নিয়ে যায়। সেখানে কয়েক দফায় মারধর করা হয়। এসময় ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন সাংবাদিক হাবিবের ছোট ভাই মোফাজ্জল হোসেন।

সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের ছোট ভাই মোফাজ্জল হোসেন জানান, ঘরে বড় ভাই হাবিবুর রহমান ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে হেফাজতের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে। টেনে-হেঁচড়ে আমার ভাইকে ঘরের বাইরে নিয়ে মারধর করে। পরবর্তীতে পুলিশ এসে উদ্ধার করে তাকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি ক্ষমা না চাওয়ার কারণে তারা আমাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে, আমার বাড়িঘর ভাঙচুর করে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে চলে যায়।’ তিনি বলেন, ‘শতাধিক হেফাজতকর্মী বাড়িতে হামলা চালালে আমি সোনারগাঁ থানা পুলিশের সহযোগিতা চাই। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তারা আমাকে মারধর করে। আমার চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পুলিশ পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিক হাবিবের ওপর হামলা চালিয়েছে হেফাজতের সমর্থকরা। তাকে উদ্ধার করে রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা গ্রহণ করা হবে।’