লালমনিরহাটে বিজিবি সদস্য কতৃক সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

মিজানুর রহমান, লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট বিজিবি ক্যাম্পের হাবিলদার আনোয়ার কতৃক,সাংবাদিক সাহিন কে শারীরিক নির্যাতন ও মিথ্যে মামলা দেওয়ার প্রতিবাদে জেলা প্রেসক্লাব আয়োজিত মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হল আজ।মানব বন্ধনে জেলায় কর্মরত সকল সাংবাদিক প্রতিকী কলম বিরতি কর্মসূচী পালন করে।

শনিবার ১৭ই এপ্রিল সকাল ১১টায় মিশন মোড় চত্বরে জেলার কর্মরত সকল সাংবাদিক বিজিবি কতৃক সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে একঘন্টা কলম বিরতি কর্মসূচী পালন করে।এসময় জেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের কাছে দাবী রাখেন, গত ১৬ই এপ্রিল রাতে দৈনিক জনকন্ঠ ও বাসাসের জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম সাহিন কে, সংবাদ প্রকাশের জেরে কুলাঘাট বিশেষ ক্যাম্পের হাবিলদার আনোয়ার হোসেন শারীরিক নির্যাতন করে,দড়ি দিয়ে বেঁধে ক্যাম্পে নিয়ে এসে এক বোতল ফেনসিডিল সহ ছবি তুলে যেভাবে থানায় মিথ্যে মামলা দিয়ে চালান দিয়েছে,এটি কোন সভ্য সমাজের কাজ হতে পারেনা,লালমনিরহাট জেলার সাংবাদিক সমাজ এই মানববন্ধন থেকে ঘৃনিত এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করে,সেই সাথে দোষী বিজিবি সদস্য আনোয়ার ও সানোয়ার এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করে।

মানব বন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক আঃরব সুজন,আবু হাসনাত রানা,আনোয়ার হোসেন স্বপন,আহমেদুর রহমান মুকুল,দীলিপ রায়, আলতাফুর রহমান,শরিফুল ইসলাম রতন,হাসান আব্দুল আজিজ, জিন্নাতুল ইসলাম,মোয়াজ্জেম হোসেন,মাহফুজ সাজু,আসাদুল ইসলাম সবুজ, জাহাঙ্গীর আলম সাহিন প্রমুখ সহ শতাধিক সাংবাদিক বৃন্দ।

মানব বন্ধনে উপস্থিত হয়ে জাহাঙ্গীর আলম সাহিন জানান, কুলাঘাট বিশেষ ক্যাম্পের বিজিবি হাবিলদার আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ঐ এলাকার মাদক ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে অবাধে মাদক ব্যাবসার সুযোগ করে দিয়েছেন,তার বিরুদ্ধে বিজিবি অধিনায়কের কাছে নালিশ করায় সে আমার ছবি মোবাইলে রেখে আমার সম্পর্ক্যে বিভিন্ন লোকের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ কর, ঘটনাক্রমে ১৬এপ্রিল রাতে আমি পেশাগত কাজ শেষে বাড়ী ফেরার পথে কুলাঘাট বেইলি ব্রীজের সামনে আসলে আমাকে হাবিলদার আনোয়ার গাড়ী থামার সংকেত দিলে আমি গাড়ী থামিয়ে পরিচয় দেই,আমার পরিচয় পাবার পর মুহুর্ত্যে আমার কলার ধরে মটর সাইকেল থেকে নামিয়ে লাঠি দিয়ে মারতে থাকে আর বলে শালার সাংবাদিকের গু ষ্টি মারি, ডাক তোর কোন বাবা আছে।এই সময় আমার সাথে থাকা ছোট ভাই সোহাগ সহ আশেপাশের লোক তাদের জিজ্ঞেস করে তাদের মারছেন কেন কি অপরাধ,এই কথা শুনে বিজিবি হাবিলদার আনোয়ার বলে শালার সাংবাদিক কে আজকে শিক্ষা দেব,তোরা সরে যা নইলে গুলি করবো।এই অমানবিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখে মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়লে,দড়ি দিয়ে বেঁধে আমাকে টেনে হিঁচড়ে
কুলাঘাট ক্যাম্পে নিয়ে এসে পুনরায় মারধর শুরু করে।

ক্যাম্পে আসার পর আমার সঙ্গে থাকা ছোট ভাই সোহাগ কে ছেড়ে দেয়,আমাকে জোর করে একটি ফেনসিডিল সামনে রেখে ছবি তুলতে বাধ্য করে।
আমাকে ধরার সময় আশেপাশে অনেক লোক ছিল তাদের উপস্থিতিতে তল্লাশি করে কোন অবৈধ জিনিস তারা পাইনি।এই ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শী যারা রয়েছেন আপনারা চাইলে আমি তাদের সামনে নিয়ে আসবো।উপস্থিত কয়েকজন আমাকে সেখানে জানায় বেশ কিছুদিন যাবত একটি ফেন্সীডিল পকেটে নিয়ে হাবিলদার আনোয়ার ঘুরছে আমাকে ফাঁসানোর জন্যই।এর পরে কি হয়েছে আমার সাংবাদিক সহকর্মী বন্ধুরা অবগত আছেন।তাদের প্রচেষ্টা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সহযোগীতায় শুক্রবার আমি জামিনে মুক্ত হই ।

এদিকে বিজিবি হাবিলদার আনোয়ারের বিরুদ্ধে কুলাঘাট এলাকার একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করেছেন,বেইলি ব্রিজের পাশে চেক পোস্ট নির্মানের কথা বলে ফুলবাড়ি থানার একাধিক মাদক ব্যাবসায়ী মোফাজ্জল,ওহেদুল,সুজন,নাজিম খাঁ ইউনিয়নের হারুন মেম্বার,কুলাঘাটের সাধারন ব্যাবসায়ী বাবু মন্ডল,ভোলা,নুর সহ একাধিক ব্যাক্তির কাছ থেকে গত এক মাসে তিন লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করে উত্তোলন করেছে।সাংবাদিক সাহিন নির্যাতনের ঘটনায় বিজিবি আনোয়ার ও সানোয়ারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন কুলাঘাট এলাকাবাসী।