সোনাইমুড়ীতে অপহৃত শিশু লক্ষীপুর থেকে উদ্ধার, দুই অপহরণকারী আটক

সোনাইমুুড়ী,(নোয়াখালী) প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সোনামুড়ীর ৫নং অম্বর নগর ইউপির উত্তর অম্বর নগর গ্রামের অপহরনের একদিন পর শিশু নাজমুল হাসান সুজন (২) কে লক্ষীপুর থেকে উদ্ধার করেছে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার গভীর রাতে লক্ষীপুরের বাঞ্চানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ২ অপহরণকারীকে আটক করেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর অম্বর নগর রামের মন্তাজ মিয়ার বাড়ির নূরুল আমিনের ছেলে নাজমুল হাসান সুজনকে তার জেঠাতো ভাই শামিম বাড়ির পাশবর্তী দোকানে নিয়ে যায়। এ সময় দক্ষিণ অম্বর নগর সুজনের ফুফুর বাড়িতে থাকা লক্ষীপুরের রাসেল শামিম এর কাছ থেকে সুজনকে চকলেট কিনে দিবে বলে নিয়ে যায়। কিছু সময় পর শামিম বাড়ি যাওয়ার সময় সুজনকে নিতে চাইলে রাসেল বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা শামিমকে বলে। প্রতি উত্তরে শামিম বলে আমি এনেছি আমি নিয়ে যাব, কিন্তু রাসেল বলে, আমি তাকে ঘরে পৌঁছে দিব।

এ ঘটনার ১ঘন্টা পর ভিকটিম এর মা নাজমা আক্তার ভাশুরের ছেলে শামিমকে সুজন কোথায় জিজ্ঞাস করলে সে বলে রাসেল দিয়ে যায় নাই? এর পর শুরু হয় খোজা খুজি। রাসেল ও শিশু সুজনকে এলাকার কোথাও পাওয়া যাচ্ছেনা। এরই মধ্যে ঐ দিন বিকেলে অজ্ঞাতনামা স্থান থেকে ২লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে ভিকটিমের মাকে ফোন দেয়। নিরুপায় হয়ে ভিকটিম এর মা নাজমা বেগম অপহরনকারীদের দেওয়া বিকাশ নাম্বারে ১০হাজার টাকা পাঠিয়ে ছেলেকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ করেন।বাকী টাকা না দিলে ছেলেকে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে রবিবার বিকালে ভুক্তভোগীর মা নাজমা আক্তার নিরুপায় হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে মোবাইল ট্যাকিং এর মাধ্যমে সোমবার গভীর রাতে লক্ষীপুরের বাঞ্চানগর এলাকা থেকে অপহৃত শিশু সুজনকে উদ্ধারও অপহরনকারী রাসেল (২৩) ও মাসুদ (২৪) কে আটক করতে সক্ষম হয়। বাকি অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়।

সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, শিশু সুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরনকারী দলের রাসেল ও মাসুদকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠনো হয়েছে। বাকী অপহরণকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।