যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ায় ফিলিস্তিনি জাতিকে অভিনন্দন জানিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বার্তা

শেখ আল মাসুদ, ইরান ।।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
দৃঢ় ও মজলুম ফিলিস্তিনিদের প্রতি সালাম; সালাম জানাচ্ছি ফিলিস্তিনের সাহসী তরুণদের প্রতি; বীর ও প্রতিরোধী গাজার প্রতি আমার সালাম; হামাস ও ইসলামী জিহাদসহ ফিলিস্তিনের সব জিহাদি ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতি সালাম জানাচ্ছি। ফিলিস্তিনি মুজাহিদদেরকে সাহায্যের মাধ্যমে সম্মানিত করার জন্য মহান আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যাদের স্বজনরা শহীদ হয়েছেন আল্লাহ তাদের আহত মন ও হৃদয়ে প্রশান্তি দান করুন। দয়ালু আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন শহীদদের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং আহতদের পরিপূর্ণভাবে সুস্থতা দান করেন।
অপরাধী ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বিজয়ে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। বিগত কয়েক দিনের পরীক্ষায় ফিলিস্তিনি জাতি সম্মানিত হয়েছে। নেকড়ে স্বভাবের বর্বর শত্রু ইহুদিবাদীরা সঠিকভাবেই এই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে,ফিলিস্তিনি জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন মোকাবিলা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। গাজার সঙ্গে বায়তুল মুকাদ্দাস, পশ্চিম তীর, ১৯৪৮ সালের আগের ভূখণ্ড ও শরণার্থী শিবিরগুলোর সহযোগিতাই হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা।
নির্দয় ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মোকাবিলায় অক্ষমতার কারণে গাজার নিরীহ বেসামরিক জনগণের সঙ্গে এমন ‘লজ্জাজনক ও উন্মত্ত’ আচরণ করেছে যে,গোটা বিশ্ববাসী ইসরাইল ও তার পশ্চিমা সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং পাশ্চাত্যের সরকারগুলো বিশেষকরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঘৃণা আরও বেড়েছে।
আগামী দিনগুলোতে ফিলিস্তিন আরো বেশি শক্তিশালী এবং ফিলিস্তিনি তরুণ সমাজ ও প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর মোকাবিলায় ইহুদিবাদী ইসরাইল আরো বেশি দুর্বল হয়ে পড়বে। কখন যুদ্ধ শুরু হবে এবং কখন শেষ করতে হবে তা এখন ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রতিরোধ সংগঠনগুলোই নির্ধারণ করেন। তবে সংঘাত শেষ হলেও প্রতি মুহূর্তে প্রস্তুতি ও ময়দানে উপস্থিত থাকতে হবে।
ফিলিস্তিনিদেরকে আর্থিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী করে তোলার দায়িত্ব মুসলিম বিশ্বের। সেইসঙ্গে গাজা উপত্যকার ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণেও মুসলিম দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে, সন্ত্রাসী ও রক্তপিপাসু ইহুদিবাদী ইসরাইলকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ করা ও এই ইস্যুটি নিয়ে এগিয়ে নেওয়া। ১২ দিন ধরে নারী ও শিশু হত্যার যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে সেটার বিচার করতে হবে। নেতানিয়াহুসহ এই অপরাধে জড়িত সবাইকে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক আদালতের সম্মুখীন করতে হবে এবং বিচার করতে হবে। আল্লাহর শক্তিতে এটা অবশ্যই ঘটবে, “আল্লাহ তাঁর কাজের ব্যাপারে পূর্ণ কর্তৃত্বশীল (সূরা ইউসুফ,আয়াত ২১)।”
৯ শাওয়াল, ১৪৪২
৩১ উর্দিবেহেশত, ১৪০০
(২১ মে, ২০২১)
সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী