ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতা ইমাম খোমেনী (রহ.)’র ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী

শেখ আল মামুন ।।
১৯৮৯ সালের ৩ জুন তিনি ৮৭ বছর বয়সে তেহরানের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি।  
ইমাম খোমেনী (রহ) সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মুসলিম জাতিগুলোকে জাগিয়ে তোলার জন্য সব সময় সক্রিয় ছিলেন। আধুনিক যুগে ইসলামী ঐক্যের প্রধান রূপকার হিসেবে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। মুসলিম বিশ্বের প্রধান সংকট সমাধানের লক্ষ্যে তথা মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসাকে পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি প্রবর্তন করেন বিশ্ব-কুদস দিবস যা পালন করা হয় প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবারে। তাঁরই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে গড়ে উঠেছে ইসরাইল বিরোধী অদম্য বিজয়ী শক্তি লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের ইসলামী জিহাদ ও হামাস।
পবিত্র কুরআন ও বিশ্বনবী (সা)’র প্রতি অবমাননাকারী কুখ্যাত মুর্তাদ সালমান রুশদির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ঐতিহাসিক ফতোয়া দিয়ে ইমাম খোমেনী (র) পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক ক্রুসেডের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছিলেন। বিশ্বনবীর (সা) সুন্নাত অনুসরণ করেই ইমাম তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ নেতা মিখাইল গর্বাচেভের কাছে ইসলামের দাওয়াত পাঠিয়েছিলেন এবং সমাজতন্ত্র জাদুঘরে স্থান পাবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। ইমামের ওই ভবিষ্যদ্বাণী কয়েক বছরের মধ্যেই সফল হয়েছিল। এভাবে ইমাম খোমেনী হয়ে আছেন ইসলামের ইতিহাস ও মুসলিম বিশ্বের এক অমর নেতা।
মুসলমানদের প্রথম কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাস বা আল-কুদস আল শরিফকে (জেরুজালেম) ইহুদিদের দখল থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মহান নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনী বিশ্ব কুদস দিবস পালনের আহবান জানান।
আল-কুদস দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “কুদস দিবস একটি বিশ্ব দিবস। দিবসটি কেবল কুদসের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। এই দিবস বলদর্পী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে শোষিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত জনতার দিবস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের জুলুম অত্যাচারে যেসব দেশ পিষ্ট হয়েছে তাদের রুখে দাঁড়ানোর দিবস। এই দিবস বলদর্পীদের বিরুদ্ধে নিগৃহীতদের সুসজ্জিত হবার দিবস।”
সমগ্র বিশ্বের সব মুসলমান ঐক্যবদ্ধ হলেই যে মধ্যপ্রাচ্যের বিষাক্ত ক্যান্সার ইসরাইলকে পরাজিত করা সম্ভব তা মরহুম ইমাম খোমেনী তাঁর বিভিন্ন ভাষণে বার বার বোঝানোর চেষ্টা করেছেন ৷তিনি দুঃখ করে বলেছিলেন, “আরব দেশগুলোর জনগণ যদি এক বালতি করেও পানি ঢালতো, তাহলে ইসরাইল ভেসে যেতো।”
মরহুম ইমাম খোমেনীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সবাইকে গভীর শোক আর সমবেদনা জানাচ্ছি।