সাভার রেসিডেন্টিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মন হত্যায় ০৩ জন গ্রেফতার

মিজানুর রহমানঃ
সাভার রেসিডেন্টিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ্য মিন্টু চন্দ্র বর্মনের হত্যার রহস্য র্র্যাব উদঘাটন করেছে। হত্যার সাথে জড়িত ০৩ জন কে গ্রেফতার করেছে র্র্যাব।
লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার শরত চন্দ্র বর্মনের পুত্র মিন্টু চন্দ্র বর্মন (৩৬)সাভার রেসিডেন্টাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন,গত ১৩ জুলাই থেকে নিখোঁজ থাকায় মিন্টু চন্দ্র বর্মনের ভাই দীপক চন্দ্র বর্মন গত ২২জুলাই আশুলিয়া থানায় একটি জিডি করেন।বিষয়টি মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারিত হলে র্র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে।০৮আগষ্ট মধ্যরাত থেকে র্র্যাব গোয়েন্দা শাখা সাভার, আশুলিয়া,ও গাইবান্ধায় অভিযান চালিয়ে ০৩ জন আসামী কে গ্রেফতার করে।  আসামীরা হলেন ১৷রবিউল ইসলাম(৩০)পিতা জালাল উদ্দিন,গ্রাম চন্ডিপুর,থানা সুন্দরগঞ্জ,জেলা গাইবান্দা ২৷মোতালেব হোসেন(৩০)পিতাঃমফিজুর রহমান, গ্রাম- গিতালগঞ্জ থানা- ভজনগঞ্জ জেলা-পঞ্চগড়, ৩৷রহিম বাদশা (২২) পিতা-আব্দুল ওহাব গ্রাম-চন্ডিপুর থানা- সুন্দরগঞ্জ, জেলা- গাইবান্ধা ।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা মিন্টু চন্দ্র বর্মন হত্যাকান্ডে তাদের সম্পৃক্ততা স্বীকার  করেন,আসামীদের দেওয়া তথ্য মোতাবেক হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধারে  র্র্যাব সদস্যরা আশকোনায় অভিযান চালান।সাভার রেসিডেন্টাল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে নিহত মিন্টুর শরীরের খন্ডিত ছয় টুকরো উদ্ধার করা হয়।আশকোনার একটি ডোবা থেকে নিহত মিন্টুর অবশিষ্ট খন্ডিত মস্তক উদ্ধার করে র্র্যাব। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত সাবল, ভিকটিমের জামা কাপড়  উদ্ধার করে র্র্যাব সদস্যরা।
র্র্যাব সুত্রে জানা যায় নিহত মিন্ট্র চন্দ্র বর্মন সাভার রেসিডেন্টিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন,ধৃত আসামীরা নিহত মিন্টুর পার্টনার ছিলেন।তারা চারজন মিলে স্কুলটি পরিচালনা করতেন।স্কুলের টিউশন ফি এবং লভ্যাংশ নিয়ে নিহত মিন্টুর সাথে বিরোধ শুরু হয়।এই বিরোধের জেরে ধৃত আসামীরা মিন্টু চন্দ্র বর্মন কে হত্যাকান্ডের সিদ্ধান্ত নেয়।আসামী রবিউল ইসলাম পরিকল্পনা মাফিক সাবল,কোদাল,ছুড়ি তৈরী করে স্কুলের সিঁড়ির নীচে লুকিয়ে রাখে।স্কুলে প্রবেশের জন্য রবিউল ইসলাম একটি ডুপ্লিকেট চাবি তৈরী করে রাখেন।
১৩ জুলাই পরিকল্পনা মাফিক আসামী রবিউল ইসলাম ও তার ভাগ্নে রহিম বাদশা ও মোতালেব হোসেন অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মন কে হত্যার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।ছাত্র ছাত্রীদের টিউশনির কারনে অনেক রাত অবধি স্কুল খোলা থাকায় রাত ১১ টা ত্রিশ মিনিটের দিকে আসামী রবিউল ইসলাম অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মন কে একটি ক্লাশ রুমে ডেকে নিয়ে যায়, সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা ভাগ্নে রহিম বাদশা হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে,এসময় মিন্টু প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে আসামী রবিউল ইসলাম মিন্টু কে জাপটে ধরে,রহিম বাদশার উপর্যপুরি হাতুড়ির আঘাতে মিন্টু চন্দ্র বর্মন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।আসামী রবিউল ইসলাম প্রথমে ভিকটিমের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করেন,তারপর একে একে শরীর ছয় টুকরো করে স্কুলের বাউন্ডারির ভিতরে পুঁতে রাখেন।খন্ডিত মাথা পলিথিনে মুড়িয়ে আশকোনা এলাকার একটি ডোবায় পুঁতে রাখা হয়, হত্যায় ব্যবহৃত দা,ব্যাগ,এবং ভিকটিমের মোবাইল এয়ারপোর্ট রোডের পাশে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।তারপর আসামীরা আত্মগোপনে চলে যান।
এদিকে নিখোঁজ মিন্টু চন্দ্র বর্মনের হত্যার খবর পরিবারের কাছে পৌছুলে ভিকটিমের মা বারবার মূর্ছনা যান।নিহত মিন্টু চন্দ্র বর্মনের বড় ভাই মামলার বাদী দীপক চন্দ্র বর্মন তার ভাই হত্যার সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন।