নোয়াখালীতে বন্ধুর সাথে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ

খোরশেদ আলম শিকদার, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ 
নোয়াখালী সদর উপজেলায় কথিত বন্ধুর সাথে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ (২৫)।
গতকাল ১২ সেপ্টেম্বর রবিবার রাতে সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ইব্রাহিম মেম্বারের মৎস্য খামারে এ গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে নির্যাতনের শিকার নারী গৃহবধূ সুধারম মডেল থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ রবিবার রাতেই মামলার প্রধান আসামি ওই গৃহবধূর কথিত বন্ধু রাকিবকে (২৫) গ্রেফতার করেছে।পুলিশ নির্যাতিতা গৃহবধূকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভাধীন নাওতোলা এলাকার বাসিন্দা। ওই গৃহবধুর সাথে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর রমিজ গ্রামের আনোয়ারুল হকের ছেলে মোহাম্মদ রাকিব (২৫)-এর পূর্ব পরিচয় ছিল। ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে রাকিব ওই নারীকে রবিবার বিকেলে নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে নোফেল ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্কে বেড়াতে নিয়ে যান। দিনভর ঘুরে মাগরিবের নামাজের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাকিব ওই নারীকে নিয়ে পার্ক থেকে বের হয়ে ধর্মপুর গ্রামের ইব্রাহিম মেম্বারের মৎস্য খামারে যান। সেখানে প্রথমে রাকিব কয়েক দফা ধর্ষণ করেন। পরে রাকিবের বন্ধু মামুন (২৫), জুয়েল (২৭), সাইফ উদ্দিন (২৮) নারীকে পালাক্রমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার পর অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি রাকিবকে আটক করেন।

সুধারাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহেদ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ধর্ষণের শিকার নারী ও তার কথিত বন্ধু উভয়ে বিবাহিত। তারা পরকীয়া প্রেমে জড়িত ছিল। ওই প্রেমের সূত্রধরে রাকিব নারীকে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে তার তিন বন্ধুসহ গণধর্ষণ করেছে। তিনি আরো বলেন, এই ঘটনায় ওই নারী ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ অভিযোগটি ধর্ষণ মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে। মামলার প্রধান আসামি রাকিবকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকী ৩ জনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।