সোনাইমুড়ীতে পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর লাশ উদ্ধার

খোরশেদ আলম শিকদার, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে নির্বাচনের ৩দিন পর এক মেম্বার প্রার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বজরা ইউপির ৩নং ওয়ার্ড দক্ষিণ ছনগাঁও মাছের খামার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত জহিরুল ইসলাম (৫৭) দক্ষিণ ছনগাঁও গ্রামের মৃত হায়াত আহমদের ছেলে এবং একই ওয়ার্ড থেকে পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে সে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ২২ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জহির স্থানীয় বজরা বাজারের একজন ব্যবসায়ী। পারিবারিক জীবনে সে ৩ সন্তানের জনক ছিল। গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সে মেম্বার প্রদপ্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তালা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে জহিরুল ইসলাম দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।
নিহতের ছোট ভাই জাকির জানান, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কে বা কাহারা আমার ভাইকে মুঠোফোনে কল করে ডেকে নেয়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।  রোববার সকাল ৬টার দিকে রাস্তার পাশে একটি মাছের খামারে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা।
নিহতের ভাগিনা আরমান হোসেন জানান, তার মামা দোকান বন্ধ করে রাত সাড়ে ১১টায় বাড়িতে চলে এসে ফ্রেশ হওয়ার জন্য বাথরুমে ঢুকলে মোবাইলে বারবার কল আসে। কল রিসিভ করে লেনদেন বিষয়ে কথা বলে কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে আসবো বলে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এরপর সে আর ফিরে আসেনি। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করলে তার হাতে পলিথিনে মোড়ানো কমলার ব্যাগ পাওয়া যায়। কমলা পাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক বলে দাবি করেন তিনি।
সোনাইমুড়ী থানার ওসি (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে সুরতহাল সম্পন্ন করে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে। নিহতের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তার সাথে ফল ও পাউরুটির একটি ব্যাগ এবং একটি ইন হেলার পাওয়া যায়। ময়না তদন্ত রিপোর্ট এলে মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে।  মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রবিবার বাদ আছর তার জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পুর্ন করা হয়।