লালমনিলহাটে ০৩ মামলায় সাজা সহ ২২ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার

মিজানুর রহমানঃ

লালমনিরহাটে ০৩ মামলায় সাজাসহ ২২মামলায় ওয়ারেন্ট  ভুক্ত পলাতক আসামী কে গ্রেফতার করছে আদিতমারী থানা পুলিশ।গ্রেফতার কৃত আসামী আব্দুস সাত্তার শাহীন(৪০) লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়ন ভেটেশ্বর গ্রামের আবু তাহেরের পুত্র।তার বিরুদ্ধ তিনটি মামলায় সাজা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতারনা ও চেক জালিয়াতির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোক্তারুল ইসলাম জানান,একাধিক মামলায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক আসামী আব্দুস ছাত্তার সাহিন কে ধরতে পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) জনাব মোঃ মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে ঢাকা,গাজীপুর, সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হয়,অবশেষে গত মঙ্গলবার রাতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ও গোপন তথ্যের মাধ্যমে ভালুকা পৌরসভা এলাকা থেকে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশের সহযোগীতায় গ্রেফতার করতে সেক্ষম হন তারা।আসামী আব্দুস সাত্তার শাহীনের বিরুদ্ধে দিনাজপুর জেলার  যুগ্ন দায়রা জজ আদালতে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৮,৪৭,০০০টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়, যাহার মামলা নং-২২৫৮/১৮,নোয়াখালী জেলার  সিআর নং-৩২৬/০৯ মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড সহ ২,০০০/- টাকা অর্থদন্ড এবং সিআর-২৮/১৬ সংক্রান্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদানের আদেশ রয়েছে। এছাড়া আসামীর বিরুদ্ধে তার বিরুদ্ধে নারায়নগঞ্জ, নীলফামারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিরাজগঞ্জ, শেরপুর, চট্রগ্রাম, ঢাকা, চুয়াডাঙ্গা সহ বিভিন্ন জেলার বিজ্ঞ আদালতে পেনাল কোড-১৮৬০ এর ৪০৮ ধারা তথা অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে টাকা আত্মসাৎ সহ দি নেগোসিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট-১৮৮১ এর ১৩৮ ধারায় চেক ডিজঅনারের ১৯(ঊনিশ) টি মামলা সহ ২২টি মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা সমূহ ইস্যু করা হয়েছে।

পুলিশ সুত্রে জানা যায় আসামী আব্দুস সাত্তার শাহীন গ্রামো ফার্মাসিউটিক্যালস, গ্রামো ফিড লিমিটেড, প্রিমিয়াম ফিড লিমিটেড নামে বিভিন্ন কোম্পানী খুলে দেশের বিভিন্ন এলাকার লোকজনের নিকট মালামাল গ্রহন,চেকের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে।২০১১সালের ০৯ মার্চ র্র্যাব,ওষুধ প্রশাসন,জেলা প্রশাসন,বিএসটিআই যৌথভাবে টাস্কফোর্স পরিচালনা করে আসামী আব্দুস সাত্তার শাহীনের গাজীপুরের কোম্পানিতে অভিযান পরিচালনা করে অনুমোদনহীন ওষুধ,এনার্জি ড্রিংন্ক,সেক্সের ক্যাপসুল সহ দুজন কে আটক করা হয়।জব্দকৃত নকল ঔষধ ধ্বংশ করে কোম্পানির ব্যাবস্থাপক ও হিসাব রক্ষককে ৩০,০০০টাকা জরিমানা করে কারখানা সিলগালা করে দেওয়া হয়।

কোম্পানী বন্ধ হলে আব্দুস সাত্তার শাহীন পালিয়ে যায়। তারপর থেকে আসামী আব্দুস সাত্তার শাহীন বিভিন্ন নাম পরিচয় ও বিভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আত্মগোপনে থাকে।পুলিশ একাধিক অভিযান পরিচালনা করে অবশেষে ০৩ মামলার সাজা প্রাপ্ত ২২ মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী সাহিন কে গ্রেফতার করল পুলিশ।