মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক,লক্ষ্মীপুর।।

লক্ষীপুরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মঙ্গলবার (৮ মার্চ) সকালে স্থানীয় একটি অফিস কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠ করেন ভুক্তভোগী ফারজাহান বেগম রিক্তা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগীর বড় বোন মুক্তা এবং তার মা ফেরদৌসী বেগম এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে ফারজাহান বেগম রিক্তা বলেন, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ডের কুতুবপুর এলাকার মকবুল মাষ্টারের পুরান বাড়ীর জনৈক খোরশেদ আলমের স্ত্রী কুলসুম বেগম(৪৫) বাদী হইয়া আমার ছোট ভাই মোঃ মামুনুর রশীদ (৩২) কে ১নং ও আমাকে ২নং বিবাদী করিয়া গত ১২ ফেব্রুয়ারী সদর থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৫ জানুয়ারী আমার ভাই ১নং বিবাদী মোঃ মামুনুর রশিদ বিয়ের আশ্বাসে ফুসলাইয়া লক্ষ্মীপুর শহরের ১২নং ওয়ার্ড এলাকার একটি ভাড়া করা বাসায় বাদীর কন্যা পপি বেগমকে ডাকিয়া নিয়া তাহার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার জোর পূর্বক ধর্ষন করে।অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পরে বিষয়টি কাহারো কাছে প্রকাশ না করে আমার মাতা ও আমার নিকট মামুনুর রশিদ এর সাথে পপি আক্তারের বিয়ের দাবি জানালে আমরা এতে কর্ণপাত না করায় তাহারা আমাদের ভাই-বোনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রুজু করে।

এ বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা দাবী করে ফারজাহান বেগম বলেন, পপি বেগম গত ২৫/১১/২১ ইং তারিখে লক্ষ্মীপুর পৌর মার্কেটে অবস্থিত মেটলাইফ অফিসে আমার ভাইয়ের কর্মস্থলে একটি বীমা করার অজুহাত নিয়ে এসে আমার ভাই মামুনুর রশিদ এর সাথে সরাসরি পরিচিত হয় এবং তার মোবাইল নাম্বার ,ফেসবুক মেসেঞ্জার ও ইমু নাম্বার সংগ্রহ করে। এর পর থেকে পপি বেগম ফেসবুক মেসেঞ্জারে ও ইমুতে আমার ভাই মামুনুর রশিদকে নানারকম বার্তা দিতে থাকে। এক পর্যায়ে পপি বেগম আমার ভাই মামুনুর রশিদকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। পপি বেগমের প্রস্তাবে আমার ভাই রাজী নয় বলে জানিয়ে দেয়।তার পরও একসময় পপি বেগম ফেসবুক মেসেঞ্জার ও ইমুর মাধ্যমে তার শারীরিক আবেদনময়ী বার্তা প্রদানের সাথে সাথে নানানরকম আবেদনময়ী স্থীর চিত্রও পাঠায় এবং পপি বেগম আমার ভাই মামুনুর রশিদকে ‘‘এসো আমরা বিয়ে করে ফেলি, আমার আর ভালো লাগে না লিখে বার্তা পাঠায়’’। প্রায় এক মাস যাবৎ আমার ভাই মামুনুর রশিদকে বিয়ে করার জন্য পপি বেগম নানানভাবে ছলনার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। এমতবস্থায় আমার ভাই মামুনুর রশিদ পপি বেগমের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারে পপি বেগমের অতীতের নানারকম অপকর্মের কাহিনী। পপি বেগম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের ভবেরহাট এলাকার জনৈক আবু কালামের পুত্র রাজমিস্ত্রি মোবারক ও কুমিল্লার লাঙ্গলকোট উপজেলার ফয়েজ আহম্মদের সাথে ইতিপূর্বে বিয়ে হয়। এ বিষয়ে আরও জানা যায়, পপি বেগম তার রুপ যৌবনের ছলাকলা প্রদর্শন করে অভিনয় ও ছলনার মাধ্যমে বিয়ে বিয়ে নাটক করে তার সাবেক স্বামী মোবারকদের জেল -জুলুমের ভয় দেখিয়ে স্বর্ন গহনা সহ প্রায় আট লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।এছাড়া একইভাবে কুমিল্লা নাঙ্গলকোটের ফয়েজের নিকট থেকেও প্রায় চার লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। পপি বেগম সমাজের নিরীহ যুবকদের টার্গেট করে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে নিজের রুপ যৌবনের ফাঁদে ফেলে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে তাদেরকে সর্বশান্ত করাই এইপপি বেগমের নেশা ও পেশা। পপি বেগমের এসব অপকর্মের খবর জানতে পেরে আমার ভাই মামুনুর রশিদ তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।এমতবস্থায় পপি বেগম আমার ভাইয়ের মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে তাকে বিয়ে করতে বলে তা না হলে আমার ভাই মামুনুর রশিদকে জেল খাটানোর হুমকি দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষিপ্ত হয়ে পপি বেগম গত ১১ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার দুপুরে আমার ভাই মামুনুর রশিদকে থানায় কোন অভিযোগ না দিয়ে,বিনা ওয়ারেন্টে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে থানায় নিয়ে যায়।ঐদিন দুপুর-রাত এবং পরদিন শনিবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে আমার ভাই মামুনুর রশিদের সাথে দশ লক্ষ টাকা দেনমোহর নির্ধারন করিয়া পপি বেগমের সাথে বিবাহ নিবন্ধন করিতে হইবে বলিয়া জানায়। অন্যথায় আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষন মামলা দায়ের করিয়া তাকে কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেয়।আমার ভাই ও আমরা তাদের এসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ঐদিনই ১২ফেব্রুয়ারী আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে পপি বেগমের মাতা কুলসুম বেগম বাদী হইয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০সালের (সংশোধনী) ২০২০ এর ৯(১) ৩০ ধারায় মিথ্যা ধর্ষন মামলা দায়ের করিয়া তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং এই মামলায় আমাকে ২নং আসামী করা হয়।সম্পূর্ন মিথ্যা এ মামলায় আমার ভাই মামুনুর রশিদ লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে বন্দী আছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারী আমি এ মামলায় মহামান্য হাইকোট থেকে জামিন লাভ করি। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সকল মহলের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, এ মামলার সূত্র ধরে ছলনাময়ী প্রতারক পপি বেগমের অতীত ও বর্তমান কার্যকলাপের বিষয়ে তদন্ত করে তার সকল অপকর্ম সম্পর্কে অবগত হয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে ফারজাহান বেগম মহামান্য আদালত, জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসনের কাছে উক্ত মিথ্যা মামলা ও হয়রানির সঠিক তদন্ত করে ন্যায় বিচার কামনা করেন।