লালমনিরহাটে ফেন্সিডিলের টাকা নেন বাদশা মেম্বার, গ্লাসে ঢেলে দেন তার স্ত্রী স্বপ্না

মিজানুর রহমানঃ
লালমনিরহাট জেলার কালীগন্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদশার বাড়ীতে প্রতিদিন বসছে ফেন্সিডিলের আসর।অপ্রতিরোধ্য বাদশা মেম্বার ফেন্সিডিল বিক্রি করে তৈরী করেছেন আলিশান বাড়ী,নির্বাচিত হয়ে তার অবৈধ মাদক ব্যাবসা ফুলে ফেঁপে উঠেছে।
রবিবার(১২জুন) একটি ছবি ভাইরাল হলে সাড়া জেলা জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়,ছবিতে দেখা যায় বাদশা মেম্বার ফেনসিডিলের টাকা নিচ্ছেন তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম গ্লাসে ফেনসিডিল ঢেলে দিচ্ছেন।বিষয়টি ভাইরাল হবার পর থেকে এলাকার সাধারন মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।একজন ইউপি সদস্যর বাড়ীতে দিনের পর দিন এভাবে মাদকের আসর ও রমরমা ব্যাবসা চললেও ঐ ইউপি সদস্য প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউপি সদস্যের স্ত্রী স্বপ্না বেগম এক দিন ২০ টাকা কম পাওয়ায় এক মাদক সেবীর সাথে খারাপ আচরণ করেন,এর ফলে ঐ ব্যাক্তি বাদশা মেম্বারের বউকে বলেন প্রশাসন দিয়ে আপনার বাড়ী রেড করাবো,তখন স্বপ্না বেগম বলেন,এটা বাদশা মেম্বাড়ের বাড়ি,পুলিশ আসলে একজন ফেরত যেতে পারবে না,আর আমি পুলিশ আসার আগে খবর পাবো।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়,ফেন্সিডিল বিক্রির টাকা সরাসরি ইউপি সদস্য বাদশা মিয়ার হাতে দেওয়ার সময় তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে খারাপ আচরণের বর্ণনা দেয় এক মাদক সেবী। যা শুনে বাদশা তার স্ত্রীকে বিষয়টি নিয়ে শাসন করেন।
এ নিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিরা অভিযোগ করে জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়ন সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসায় জড়িত বাদশা মিয়া।মাদক ব্যাবসার কারনে ইতিপূর্বে একাধিক মাদক মামলা তার বিরুদ্ধে বিচারাধীন রয়েছে। ব্যবসা ঠিক রাখতে এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে গোড়ল ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর আবার শুরু হয় তার মাদক ব্যবসা।মাদক ব্যাবসার টাকা দিয়ে আলীশান বাড়ী নির্মান করেছেন বাদশা মেম্বার।
স্থানীয়রা জানান প্রতিদিন রংপুর,লালমনিরহাট, হারাগাছ সহ বিভিন্ন স্থানের লোকজন ফেনসিডিল খেতে আসে বাদশার বাড়িতে। সীমান্ত কাছে হওয়ায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বড় চালান পাচার করে বাদশার বাড়িতে পাঠায়। তার বাড়ি থেকে ফেনসিডিল চলে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। আর এসব নিয়ে কেউই তার ভয়ে মুখ খোলে না।বিষয়টি নিয়ে ৯৯৯ কল দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ভালো সখ্যতা গড়ে ওঠে বাদশার। তাই মাদক বিক্রেতা ও বহনকারীরা প্রশাসনের হাতে আটক হলেও বাদশা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। তার এসব কর্মকাণ্ডে এলাকার উঠতি তরুণ সমাজ বিপথে যাচ্ছে।
তবে এসব বিষয়ে জানার জন্য গোড়ল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাদশা মিয়াকে ফোন করলে তিনি অস্বীকার করে এ প্রতিবেদককে শাসিয়ে বলেন, কার সঙ্গে কথা বলছ? আমাকে চিন? কথাবার্তা ভালো করে বলবা। প্রতিবেদক আপনার বাসায় ফেনসিডিল বিক্রি হয় কি না, এমন প্রশ্ন করলে জবাবে তিনি ‘জানি না’ বলেই ফোন কেটে দেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম গোলাম রসুল বলেন, ইউপি সদস্য যত বড় মাপের নেতা হোক, তাকে ধরা হবে। এই থানায় মাদক ব্যবসা করতে দেব না। তিনি আরও বলেন, আমি নতুন এসেছি। এখনো অনেক কিছু আমার জানা নেই। ধীরে ধীরে সব তথ্য পাচ্ছি। সবাই সহযোগিতা করলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব। তাই সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, ইউপি সদস্যের বাড়িতে ফেনসিডিল ব্যবসা হয়, আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। এখন জানলাম। অবশ্যই দ্রুত অভিযান চালানো হবে।
