লিফট ভোগান্তিতে বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

আহাদুল ইসলাম জয়,বশেমুরবিপ্রবি, প্রতিনিধি।।
একদিকে করোনাকালীন সেশনজটের চাপ অন্যদিকে বছর শেষে নতুন ব্যাচের আগমনী বার্তা ! উভয় দিকের চাপ সামাল দিতে পূর্ণ উদ্যমে চলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ক্লাস।একেকটি ক্লাস পরীক্ষার জন্য ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে। এত শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে দ্রত সময়ে পৌঁছাতে লিফট খুবি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে । তবে লিফটে নানাবিধ সমস্যার কারণে সঠিক সময়ে ক্লাসে পৌঁছাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় লিফট এরজন্য দাড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও সঠিক সময়ে লিফট না পাওয়ার কারণে সিঁড়ি পথে ক্লাসে পৌঁছতে হচ্ছে। ওদিকে দেরি করে ক্লাসে যাওয়ার কারণে সেই ক্লাসে আর ঢুকতেও পারেন না অনেক শিক্ষার্থী।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু দশতলা একাডেমিক ভবনের ওঠার জন্য প্রতিদিন তিনটি লিফট ব্যবহৃত হচ্ছে । এই লিফট ৩০ বিভাগের প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীর উপরে ওঠার একমাত্র অবলম্বন প্রতিটি লিফটের সামনে দিনের অধিকাংশ সময়ে শিক্ষার্থীদের বিরাট লাইন বিদ্যমান থাকে। উপরন্তু লিফটে ১ হাজার কেজি ধারণ ক্ষমতার কথা উল্লেখ থাকলেও, মাত্র ৬-৭ জন নেওয়ার পরে আর লোড নেয় না। আবার দ্রুত ক্লাসে পৌঁছানোর জন্য চাপাচাপি করে অনেক শিক্ষার্থী লিফটে উঠলে দেখা দেয় যান্ত্রিক গোলযোগ, ফলে সেখানে আটকা পরেন অনেক শিক্ষার্থী। দীর্ঘক্ষণ আটকা থাকার পর বের হতে পারে শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি হয় লিফট আতঙ্ক। এর পাশাপাশি শারিরীকভাবে দুর্বল বা প্রতিবন্ধীদের লিফট ব্যবহার আরো কঠিন হয়ে যায়।
অন্যদিকে লিফটে ভারী মালামাল বহন করা নিষেধ করা হলেও বিভিন্ন বিভাগের কর্মচারীরা ও নির্মাণ শ্রমিকেরা প্রতিনিয়ত ভারী মালামাল নিয়ে উঠানামা করছেন। এতে প্রতিদিন নানা দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে যাওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীদের দাবি, লিফটে কোন যান্ত্রিক সমস্যা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষকে সেটা খতিয়ে দেখা উচিত।তাছাড়া কর্মচারীদের মালামাল বহনের বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।
লিফট বিড়ম্বনা প্রকাশ করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী সালমান বলেন, আমাদের আট তলায় ক্লাস হওয়ার কারণে প্রতিদিন লিফট ব্যবহার করে থাকি। তবে এই লিফটগুলোয় ধারণ ক্ষমতা কম ও লিফটের সংখ্যা তুলনায় শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় প্রায়দিন ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি করি। এতে অনেকদিন শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষক ঢুকতে দেয় না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার মোঃ দলিলুর রহমান বলেন, বিষয়টি আসলেই দুঃখজনক। আমরা ব্যাপারটি আমাদের বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী সরাফত খান বলেন, আমরা দ্রুত পর্যবেক্ষণ করে দেখছি। কোন ত্রুটি থাকলে আমরা তা সংশোধন করবো। আর কেউ যেন ভারি মালামাল নিয়ে লিফটে প্রবেশ করে সে বিষয়ে আমাদের কর্তব্যরত লিফটম্যানকে আরও সচেতন হতে বলবো।
এছাড়াও তিনি লিফট সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে বলেন, আমাদের লিফট সংখ্যা বাড়ানোর জন্য এখনো জায়গা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর লিখিত আবেদন জানায়, আশাকরি লিফট সংখ্যা বাড়াতে পারবো।
