কোচিং ছাড়াই মেডিকেলে চান্স পেলেন লক্ষ্মীপুরের এমরান

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।।

মেডিকেলে ভর্তি পরিক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে ঢাকার শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেন হতদরিদ্র ভ্যান চালকের ছেলে মো. এমরান হোসেন।

এইচএসসির পর কোন ধরনের কোচিং করেনি এমরান। নিজে নিজেই বাড়িতে পড়েছিল এমরান। ব্যবহার করে না কোন স্ম্যার্টফোন। কারণ ভ্যানচালক বাবার পক্ষে কোচিং করানো এবং দামি ফোন কিনে দেয়া সম্ভব না। কিন্তু শত প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন এমরান হোসেন।

এমরান হোসেনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের মিয়াপাড়া এলাকায়। এমরান ভ্যান চালক মো. ইউছুফ এর ছেলে। ইউছুফ একটি ডিস্ট্রিবিউটর কোম্পানির ভ্যান চালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

এমরান পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। বিজ্ঞান বিভাগে হাজিরহাট মিল্লাত একাডেমি থেকে এসএসসি ও লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন এমরান।

মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্যই প্রথমবারের মতো ঢাকায় পা রাখেন এমরান হোসেন। এর আগে কখনো তার ঢাকায় যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তিনি বাবার একমাত্র ছেলে। তার আরও চার বোন রয়েছে।

এমরানের বাবা মো. ইউসুফ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দিতে বুধবার (৮ মার্চ) প্রথমবারের মতো ঢাকায় গিয়ে এক আত্মীয়ের কাছে ওঠেন এমরান হোসেন। শুক্রবার (১০ মার্চ) পরীক্ষা দিয়ে ওই আত্মীয়ের সঙ্গেই ঢাকায় ছিলেন। রোববার (১২ মার্চ) মেডিকেলে ভর্তির ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে তিনি ৪৭৯তম স্থান অর্জন করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মো. ইফতেখার মাহমুদ বলেন, এমরান খুবই মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। সে মেডিকেলে ভর্তির জন্য কোন কোচিং অথবা কারো কাছে প্রাইভেট পড়েনি। সম্পূর্ণ নিজের মেধা ও প্রজ্ঞায় এমরান মেডিকেলে পড়ার চান্স পেয়েছে। তার বাবা একজন ভ্যানচালক। এলাকায় তারা খুবই সাদাসিধে জীবন যাপন করেন। পরিবারে সে একমাত্র ছেলে। তার আরও ৪ বোন রয়েছে। তাদের পরিবারে খুব অস্বচ্ছতা বিরাজ করছে।

লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফিরোজ আলম বলেন, এবার আমাদের কলেজ থেকে পাঁচজন মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে এমরান একজন। ছেলেটি খুব মেধাবী। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুচিত্র রঞ্জন দাস বলেন,এমরান হচ্ছে সাধারণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মডেল, আইকন ও অনুপ্রেরণা। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পাওয়ায় এমরানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। এছাড়াও তার মেডিকেলে পড়তে সবসময় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা থাকবে। তিনি এমরানের ভবিষ্যৎ জীবনের উজ্জ্বলতা কামনা করেন।