ইরানে যেসব কারণে করোনা আতঙ্ক নেই

শেখ আল মামুন।।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিপণীবিতান, অফিস-আদালত সবকিছু খুলে দেওয়ায় ইরানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। যদিও দেশটিতে পুরোপুরি লকডাউন ছিল মাত্র এক সপ্তাহ। আক্রান্ত বাড়লে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকায় মানুষের মধ্যে করোনা নিয়ে কোনো ধরনের আতঙ্ক নেই।
আতঙ্ক না থাকার পেছনে কিছু কারণ আছে। কারণগুলো হচ্ছে- এখানে বেশিরভাগ হাসপাতাল-ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে করোনা ইউনিট আছে। ডাক্তার-নার্সরা পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী পান। স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনায় মারা গেলে পান শহীদের মর্যাদা আর তাদের পরিবার পায় বিশেষ সুবিধা। সে কারণে ডাক্তার-নার্সরা করোনা রোগীদের এড়িয়ে চলেন না।
ইরানে মাস্ক, গ্লাভস, হ্যান্ড সেনিটাইজার সহজলভ্য। সবখানে তা পাওয়া যায়। ইরানের সেনাবাহিনী অসংখ্য অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করেছে। কিছুদিন আগে এক খবরে দেখেছিলাম যে, করোনা রোগীদের জন্য যে পরিমাণ শয্যা তৈরি করা হয়েছে তার মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগই খালি পড়ে আছে।
গুরুতর করোনা রোগীদের জন্য প্রয়োজন ভেন্টিলেশন সুবিধা সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ। ইরানে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর থেকে প্রতিদিন ৩০টি করে ভেন্টিলেটর তৈরি করা হতো। ফলে ভেন্টিলেটরের অভাবে কোনো রোগী মারা যায়নি।
ইরানের প্রায় সব এলাকায় করোনা টেস্ট কেন্দ্র আছে। আছে ভ্রাম্যমান গাড়িতে টেস্টের সুবিধা। লক্ষণ থাকুক বা না থাকুক কেউ চাইলে টেস্ট করাতে পারেন।
এখানে আরটি-পিসিআর পদ্ধতির পাশাপাশি র্যাপিড টেস্ট কিটও ব্যবহার করা হয়। সেইসাথে সিটি স্ক্যানের মাধ্যমেও করোনা শনাক্ত করা হয়। টেস্টের পর করোনা শনাক্ত হলে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রতিদিন ২২ হাজারের বেশি টেস্ট করা হয়।
যেহেতু চিকিৎসা সুবিধা আছে, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম আছে, মৃতদের পরিবারের পাশে সরকার আছে তাই মানুষের মধ্যে কোনো আতঙ্ক নেই। মানুষ যদি পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তাহলে ইরান একদিন করোনা
