বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ যেন মাছ চাষের পুকুর

হাবিব শিমুল, আদমদীঘি(বগুড়া) প্রতিনিধি।।
প্রথম দেখায় মনে হতে পারে মাছ চাষের পুকুর। কিন্তু না এটি শতাধিক বছরের পুরনো একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ। সারা বছর ধরে জলমগ্ন থাকে। বিদ্যালয়ের চারদিকে থাকা মাছ চাষের পুকুর মালিকরা রাতের আঁধারে তাদের পুকুরের পানি সেচ দিয়ে ফেলে ওই বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠে। ফলে বিদ্যালয় খোলা থাকলেও এ্যাসেমব্লি(সমাবেশ) করা যায় না। আর বাচ্চারা খেলার মাঠে খেলাধুলা করতে পারে না।
এটি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদর ইউনিয়নের রামপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ। স্বাভাবিক ভাবে বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে পানি জমে। অবশিষ্ট সময় এলাকার প্রভাবশালী মাছ চাষিরা পুকুরের পানি সেচ দিয়ে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ফেলায় মাঠটি সারা বছর ধরে হয় জলাবদ্ধ না হয় কাদায় পূর্ণ হয়ে থাকে। মাছ চাষিরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। কেউ কথা বললে বা বাধা প্রদান করলে, তাদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকী দেয়া হয়।
জানা গেছে, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরের রামপুরা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯১৪ সালে। এই বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তির পরিমাণ পৌনে দুই একর (১৭৫ শতাংশ প্রায়)। বিদ্যালয়টির নিজস্ব খেলার মাঠ ছাড়াও রয়েছে দুটি পুকুর ও আবাদী জমি। কিন্তু বিদ্যালয়ের টিনসেড ভবনের অবস্থা বেহাল। এ বেহাল অবস্থার কারন হিসাবে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দুই পুকুর ও আবাদী জমি গ্রামের কিছু প্রভাবশালীরা দীর্ঘ প্রায় ২০/২৫ বছর ধরে জবর- দখল করে ভোগ করে খাচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়ের টিনসেড ভবনের সংস্কার বা উন্নয়ন হয় না। সচেতন গ্রামবাসী রামপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি খেলার মাঠ, পুকুর ও আবাদী জমি প্রভাবশালীদের হাত থেকে রক্ষার দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইব্রাহিম আলীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট বিদ্যালয়ের মাঠে পানি সেচের সত্যতা স্বীকার করে জানান, যারা পানি সেচ করেছে তাদের ডেকে ফের পানি সেচ দেওয়ার বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে। তারা কথা দিয়েছে দ্রুত বিদ্যালয়ের মাঠে ফেলা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবেন। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র মোহন্ত জানান, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দকে বার বার তাগিদ দিয়ে মিটিং এর ব্যবস্থা করলেও তারা মিটিংয়ে উপস্থিত হন না এবং সরকারি সম্পত্তির কোন হিসাব-নিকাশও দেন না।
