সান্তাহারে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ২৬৪ বস্তা চাল জব্দ

হাবিব শিমুল, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ।।
বগুড়ার আদমদীঘিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল সুবিধা ভোগীদের মাঝে বিক্রি না করে গুদামে রেখে পাচার করার অপরাধে ২৬৪ বস্তা চাল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
বুধবার(১৪ অক্টোবর) আদমদীঘির সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহবুবা হক ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্ব দেন এবং ওই পরিমান চাল জব্দ করেন।
জানা গেছে, উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের হেলালিয়া হাটের ডিলার বেলাল হোসেনের বরাবরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর প্রতিটি ৩০ কেজি ওজনের ৬৭০ (২০ মেট্রিক টন ১০০ কেজি) বস্তা চাল বিক্রির জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। সোমবার এবং মঙ্গলবার চালগুলো সুবিধাভোগীদের মাঝে বিক্রি করার দিন নির্ধারণ করা ছিল। কিন্তু ডিলার বেলাল হোসেন ২৬৪ বস্তা (সাড়ে ৮ মেট্রিক টন ) চাল বিক্রি না করে গুদামজাত করেন।
বুধবার ভোরে ওই গুদাম থেকে প্রতিটি ৫০ কেজি ওজনের প্লাস্টিকের বস্তায় করে ১৫ বস্তা চাল ইজিবাইকযোগে পাচার করার সময় স্থানীয় জনগণ চাল আটক করে পুলিশকে সংবাদ দেয়। আদমদীঘি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চাল গুলো আটক করে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা শারমিনকে অবহিত করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা শারমিনের নির্দেশে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা হক বেলা ১১টার দিকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।
ভ্রাম্যমান আদালত ডিলার বেলাল হোসেনের গুদাম তল্লাশী করে খাদ্য বিভাগের সিলমোহরযুক্ত ৩০ কেজি ওজনের ২৩৪ বস্তা এবং ৫০ কেজি ওজনের প্লাস্টিকের ১৫ বস্তা চাল জব্দ করেন। মোট ২৬৪ বস্তা চাল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা হক বলেন, ডিলার বেলাল হোসেনের নামে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করার জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পরিতোষ কুমারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পরিতোষ কুমার কুন্ডু বলেন, ২৩৪ বস্তা চাল বৈধ এবং সেগুলো ভোক্তাদের পাওনা হিসাবে রয়েছে। অবশিষ্ট প্লাস্টিকের প্রতিটি ৫০ কেজির ৩০ বস্তা চাল অবৈধ। সে কারনে এক হাজার ৫ শত কেজি চাল পাচারের অভিযোগে ডিলার বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ওই ডিলারের ডিলারী বাতিল হওয়ায় নতুন ডিলার নিয়োগ অথবা নিকটবর্তী ডিলারের মাধ্যমে ২৩৪ বস্তা চাল কার্ডধারী ভোক্তাদের মাঝে আগামী সোমবার থেকে বিতরণ করা হবে।
