ফেনীতে বিস্ফোরণের ঘটনায় মায়ের পরে দগ্ধ মেয়েরও মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি ।।
ফেনীর পৌর এলাকার শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের পাশে শফিক ম্যানশনের পঞ্চম তলায় শুক্রবার মধ্যরাতের বিস্ফোণের ঘটনায় মা মেহেরুন নেছার পর দগ্ধ মেয়ে হাফসা ইসলামও মারা গেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা প্লাস্টিক সার্জারি অ্যান্ড বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।নিহত হাফসা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
এর আগে, গত বুধবার(১০ মার্চ)বিকেলে হাফসার মা মেহেরুন নেছা (৪০) মারা যান। তারা দুইজনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা প্লাস্টিক সার্জারি এন্ড বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সেখানেই মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন মা ও মেয়ের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মায়ের মরদেহ চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার করেরহাটের ছত্তরুয়া গ্রামে দাফন করা হয়েছে। মেয়ের মরদেহও তাদের নিজ গ্রামে দাফন করার কথা আছে। তারা শফিক ম্যানশনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।
গত ৫ মার্চ রাতে শফিক ম্যানশনের ৫ম তলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণে মুহূর্তে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ওই বাসা। বিস্ফোরণে পঞ্চম তলায় থাকা মা মেহেরুন নেছা (৪০) ও দুই মেয়ে হাফসা ইসলাম (১৫) ফারাহ ইসলাম মরিয়মসহ (১৮) তিন জন দগ্ধ হন। মা ও মেয়ে হাফসার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে যায়। দুজনকে প্রথমে ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওই রাতেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের শেখ হাসিনা প্লাস্টিক সার্জারি ও বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়৷ বড় মেয়ে মরিয়ম বর্তমানে সুস্থ আছেন।
এ ঘটনায় গত শনিবার ও রোববার জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিটের এক্সপার্ট টিম ও পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
তাদের বরাত দিয়ে ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী জানান, ওই বাসার রান্নাঘরের চুলার চাবি যথাযথভাবে বন্ধ করা হয়নি। সেখান থেকে ক্রমাগত গ্যাস বের হয়। ঘরের দরজা জানালা বন্ধ থাকায় গ্যাস বাইরে যেতে না পেরে কক্ষে জমা হয়। এ সময় মশা মারার ইলেকট্রিক ব্যাট ব্যবহার করার সঙ্গে সঙ্গে স্পাকিং হয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
