লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর গর্ভে অর্ধশতাধিক বসত বাড়ী,হুমকির মুখে নবনির্মিত চারতলা স্কুল ভবন

মিজানুর রহমানঃ
লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়া গাছ ইউনিয়নে তিস্তা নদীর গর্ভে অর্ধশতাধিক বসত বাড়ী বিলীন,ভাঙ্গনের মুখে ০৪ কোটি টাকায় নব-নির্মিত স্কুল ভবন সহ শতাধিক বসত বাড়ী।জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায়।
রবিবাল (০৭ আগষ্ট)লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের তিস্তা নদীর ভাঙ্গন প্রবল আকার ধারন করেছে।ইতিমধ্যে ৫০টি বাড়ী ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।হুমকির মধ্যে রয়েছে ২০০ শত কাচা পাকা বসত বাড়ী সহ নব নির্মিত চারতলা সরকারি চোংগা দারা উচ্চ বিদ্যালয়। নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সর্বশান্ত মানুষের আহাজারি নদীর পাড়ের বাতাস ভারী হয়ে গেছে।
ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায় তিস্তা নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেতে ঘর বাড়ী গবাদি পশু সরিয়ে নিচ্ছেন নদী পাড়ের মানুষ,অনেকের বাড়ী ঘর ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে তারা অপলক দৃষ্টিতে নদীর দিকে তাকিয়ে আহাজারি করছেন।খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কালমাটি দীঘলটারী এলাকা সবচেয়ে বেশী ভাঙ্গনের স্বীকার হয়েছে,গত দুদিনে দীঘলটারী এলাকায় ২০টি বসত বাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে,গত এক সপ্তাহে খোলাহাটি,দীঘলটারি,চোংগাদারা এলাকায় অর্ধ শত বসত বাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।।বসত বাড়ী হারানো ধনঞ্জয়,নলিনী,দুলাল,দিলীপ,মংলু
এদিকে নদী ভাঙ্গনের খবর শুনে শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রশাসক আবু জাফর খুনিয়াগাছ এলাকার ভাঙ্গন কবলিত দীঘলটারি,চোংগাদারা,খোলাহাটি, এলাকা নৌকায় চরে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক পানিউন্নয়ন বোর্ডের কে নির্দেশ দেন ভাঙ্গন রোধে জরুরী ব্যাবস্থা গ্রহন করার জন্য।
পানি উন্নয়ন বোর্ড রাতেই চোংগাদারা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নব নির্মিত ভবন রক্ষার্থে জিও ব্যাগ ভরাট করন শুরু করে,সার্বিক কাজ তদারকি করতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি)রুবেল রানা মধ্য রাত প্রযন্ত সেখানে অবস্থান করেন,রাত দশটা নাগাদ বস্তা ভরাট হলে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলানো শুভ সূচনা করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের লালমনিরহাট জেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন,আমি একাধিক বার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি,জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করেছে, ভাঙ্গন কবলিত দীঘলটারি এবং চোংগাদারা স্কুল ভবন রক্ষার্থে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ভরাট করে ফেলা হচ্ছে শুক্রবার রাত থেকে।প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীকে অবগত করা হয়েছে।আমরা ঐ এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মানের জন্য সমীক্ষা শেষ করে প্রস্তাব পাঠিয়েছি।
লালমনিহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন বলেন,খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা জেলা প্রশাসক আবু জাফর মহোদয় কে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শন করেছি।জেলা প্রশাসক মহোদয় পানি উন্নয়ন বোর্ডেকে জরুরী ভিত্তিতে ব্যাবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন।জেলা প্রশাসকের নির্দেশ পাবার পর শুক্রবার রাত থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করে,কাজের তদারকি করতে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি রুবেল রানা,সহকারি কমিশনার (ভুমি) এবং আমি মধ্যরাত প্রযন্ত উপস্থিত থেকে জিও ব্যাগ ভরাট করে ফেলানো শুরু করাই।বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানো অব্যাহত রয়েছে।
ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক মহোদয় কে ভাঙ্গন কবলিত বসত বাড়ীর তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে,অতি শীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের মাঝে সরকারি অনুদান প্রদান করা হবে।
খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান মন্ডল বাদল বলেন,তিস্তা নদী বেষ্টিত খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন দুর্যোগ প্রবন এলাকা,বর্ষায় তিস্তা নদীর পানি দ্বারা প্লাবিত হয়ে একাধিকবার বন্যার সম্মুখীন হতে হয়,পানি কমতে শুরু করলে শুরু হয় নদী ভাঙ্গন।এলাকার মানুষ এখন ত্রাণ চায়না তাদের একটি দাবী তিস্তা নদী ঘিরে সরকারের মহাপরিকল্পনা অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক,নতুবা দ্রুত তিস্তা নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মান করে খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা রক্ষা করা হোক।
