লক্ষ্মীপুরে পাল্টাপাল্টি হামলায় আ.লীগ-বিএনপির ৩ নেতা আহত

বিশেষ প্রতিনিধি।।

লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের সম্মেলন থেকে ফেরার পথে মুখোশধারীদের হামলায় শাহজাহান হোসেন সাজু ও খান মোহাম্মদ সুজন নামে দুই নেতা আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷

এসময় তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় মুখোশধারীরা। এর আগে চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম মুন্সির ওপর হামলার অভিযোগ উঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম লতিফপুর গ্রামে আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে সাড়ে ৮টার দিকে একই গ্রামে পৃথক স্থানে বিএনপি নেতা আবুল কালামের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

আহত সাজু চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সুজন একই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য।

চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক কাজী মামুনুর রশিদ বাবলুর দাবি, বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় সাজু ও সুজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি।

এদিকে চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম মুন্সি অভিযোগ করেন, এশার নামাজের পর পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের বাড়ির সামনে দোকানে তিনি চা খেতে যান। এসময় চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে। তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। আর আওয়ামী লীগের লোকজনের ওপর কে বা কারা হামলা করেছে তা তার জানা নেই। তাদের কেউই এ হামলার সঙ্গে জড়িত নয়।

আহতরা জানান, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন থেকে মোটরসাইকেলযোগে সাজু ও সুজন বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ঘটনাস্থল পৌঁছালে তাদের মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে যায়। তাদের রেখে অন্যরা চলে যায়। ঘটনাস্থলে তারা ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। হঠাৎ ২০-২৫ জনের এক দল মুখোশধারী তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করে। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় মুখোশধারীরা।

আহত সাজু ও সুজন জানিয়েছেন, হামলাকারীদের তারা চিনতে পারেননি। ঘটনার সময় তাদের সঙ্গে অন্য কেউ ছিল না। হামলাকারীরা তাদের মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দিয়েছে।

সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শামিম আফজাল বলেন, মারধরের ঘটনায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের ভর্তি দেওয়া হয়েছে।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে৷ কে বা কারা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনার তদন্ত চলছে। আহতদের সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিএনপি নেতার ওপর হামলার ঘটনা কেউ আমাদের জানায়নি।