কমলনগরে কৃষি ব্যাংকের ঋণের দায় থেকে মুক্তি পেল ৮০ বছরের বৃদ্ধা প্রাণ হরি দাস

কমলনগর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর জেলার  কমলনগর উপজেলায় ৮০ বছরের  বৃদ্ধ প্রাণ হরি দাস  কৃষি ব্যাংকের ঋণের দায় থেকে মুক্তি পেয়েছে।হোপ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নামের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ঋণ মুক্তির জন্য ওই বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ায়।

রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার উপস্থিতিতে কৃষক প্রাণ হরি দাস কৃষি ব্যাংক তোরাবগঞ্জ শাখার ঋণের দায় থেকে মুক্ত হন।

২২ জুলাই কালের কণ্ঠে ‘কমলনগরে পাঁচ হাজার টাকা ঋণে ২২ হাজার পরিশোধ- মুক্তি মেলেনি বৃদ্ধের’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে হোফ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নামের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান প্রাণ হরি দাসের ঋণ পরিশোধে এগিয়ে আসে। তাকে ঋণের দায় থেকে মুক্ত করে। এ সময় তাকে আরও কিছু টাকা চিকিত্সা ও খরচ করার জন্য দেয়া হয়।

এদিকে, ইউএনও মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ও ব্যাংক ব্যবস্থাপক আবদুল কাইয়ুম এক হাজার করে আরও দুই আরও দুই হাজার টাকা বৃদ্ধকে দেন।

ঋণ মুক্তির পর কেমন লাগছে-প্রাণ হরির কাছে জানতে চাইলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণ থেকে আমি এ জীবনে মুক্তি পাবো, কখনো কল্পনাও করিনি। ইউএনও ও সাংবাদিকের সহযোগীতায় ঋণ থেকে মুক্ত হয়েছি।

কৃষি ব্যাংক তোরাবগঞ্জ শাখার ব্যাবস্থাপক আবদুল কাইয়ুম বৃদ্ধের ঋণ পরিশোধ হয়েছে বলে জানান এবং ঋণ মুক্তির টাকার রসিদ প্রদান করেন। প্রাণ হরি দাস কমলনগর উপজেলা চর কাদিরা ইউনিয়নের মৃত কামিনী কুমার দাসের ছেলে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে কৃষি ব্যাংক তোরাবগঞ্জ শাখা থেকে তিনি ৫হাজার টাকা কৃষি ঋণ নেন। গত ৮ বছর ধরে ওই ঋণ পরিশোধের নামে ভাতা উত্তোলনের দিন উত্তোলিত বয়স্কভাতার টাকা থেকে ঋণের টাকা আদায় করতো ব্যাংক। এভাবে ভাতা থেকে ২২ হাজার টাকা নিলেও আরও টাকা দাবি করে ব্যাংক কর্মকর্তারা।

অভাব-অসুখের কথা জানালেও গত ৭ জুলাই ব্যাংকে বয়স্কভাতার ৩ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকা কেটে নেয় কর্মকর্তারা।  অসুস্থ বৃদ্ধ কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ‘সেবা কক্ষে’ গেলে; ইউএনও মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ব্যাংক ব্যবস্থাপকের কাছে বিষয়টি জানতে চান।