লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে মাষ্টার রোলে কর্মরত বয় আয়াদের মানবেতর জীবন যাপন

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।

লালমনিরহাট ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে মাস্টার রোলে কর্মরত বয় আয়াদের করোনা ঝুঁকিতে মানবেতর জীবন যাপন।জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা কালীন সময়ে দিন রাত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।তাদের জন্য নেই নিয়মিত বেতন ভাতা করোনা কালীন কোন স্বাস্থ্য বীমা।

লালমনিরহাট ১০০সয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।শিশু,গাইনি,সার্জারি সহ কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই।ফলে উন্নত কোন চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় রোগীদের যেতে হয় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।নিরুপায় হয়ে যারা চিকিৎসা নিতে আসেন তাদের নির্ভর করতে হয় মাস্টার রোলে কর্মরত বয় ও আয়াদের উপর।নার্স,ল্যাব টেকনিশিয়ান,ব্রাদার এর অভাবে রোগীদের সেবা দেন মাস্টার রোলে কর্মরত আয়া ও ওয়ার্ড বয়রা।দিন রাত রোগীদের সেবা দিয়ে মাস শেষে বেতন পান ১০০০টাকা।বেতনের টাকা আসে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,সমাজ সেবক,বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি দের দেওয়া চাঁদা থেকে।

লালমনিরহাট ১০০সয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে কর্মরত ০৬জন নার্স,টেকনিশিয়ান ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।করোনায় আক্রান্তরা হলেন ১৷মজিদুল ইসলাম (সুইপার)২৷মাজেদুল ইসলাম দুলাল (বয়) ৩৷মোজাফ্ফর (ল্যাব টেকনিশিয়ান) ৪৷মোর্শেদা (নার্স) ৫৷শিউলি (নার্স) ৬৷চামেলি (নার্স)। সরকারি হাসপাতালে কর্মরত নার্স টেকনিশিয়ান ও ব্রাদার করোনা দূর্যোগে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করায় তাদের জন্য রয়েছে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্য বীমা।কিন্তূ যারা রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে ফ্রন্ট লাইনে কাজ করেন,তাদের নেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম।শত ঝুঁকির মধ্যে রাত দিন রোগীদের সেবা দিয়ে মাস শেষে পান মাত্র ১০০০ টাকা।তাই এই দুর্যোগে সেবা দিয়ে দিন শেষে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে হয় মানবেতর জীবন যাপন।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে মাস্টার রোলে কর্মরত রয়েছেন মোট ৩২জন।তাদেরই একজন মোঃ নুর নবী (হিমু) এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় শুক্রবার রাত ১-৩০মিঃ। তিনি জানান করোনা দুর্যোগে গত আশিদিন যাবত তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর সদর হাসপাতালে ভয়ে গুরুতর অসুস্থ না হলে তেমন রোগী আসে না,যারা অসুস্থ্যতা নিয়ে আসেন তাদের মাস্টার রোলে কর্মরত বয় এবং আয়া বেডে আনা নেওয়া করেন।করোনা সংক্রামিত হবার ভয়ে সিনিয়র নার্স ও ব্রাদার রোগীদের সরাসরি ধরতে চায়না, ফলে মাস্টার রোলে কর্মরত বয় আয়াদের সম্মুখ সারিতে কাজ করতে হচ্ছে।আমাদের জন্য নেই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জামদি,নেই কোন স্বাস্থ্য বীমা,মাস শেষে আমরা পাই মাত্র এক হাজার টাকা।স্বাস্থ্য সুরক্ষা থাকার পরেও আমাদের হাসপাতাল থেকে ছয়জন করোনা সংক্রামিত হয়েছেন,তাই অনেকেই এখন আতংকে আছেন।আমরা যারা মাস্টার রোলে এখানে সেবা দেই আমাদের কিছু হলে আমাদের পরিবারের দ্বায়িত্ব কে নেবে।তাই সরকারের কাছে অনুরোধ করবো দেশের এই দূর্যোগকালীন সময়ে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তাদের জন্য সরকার প্রণোদনা ঘোষনা করুক।মাস্টার রোলে কর্মরত বয় ও আয়াদের জন্য নূন্যতম বেতন ভাতা ব্যাবস্থা করুক।