সান্তাহারে রাইস মিল থেকে কাবিখার ১৪৩ মেট্টিক টন গম উদ্ধার,এলাকায় তোলপাড়

আদমদীঘি(বগুড়া)প্রতিনিধি।।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় কাবিখা প্রকল্পের ১৪৩ মেট্রিকটন গম নিয়ে শনিবার(৪ জুলাই) মধ্যরাত পর্যন্ত হৈচৈ কান্ড ঘটেছে। একটি অটো রাইস মিলে লুকিয়ে রাখা ৬ ট্রাক গম উদ্ধার ও হেফাজতে নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। কাবিখা প্রকল্পে বরাদ্দ করা ওই পরিমান গম শনিবার রাতে সান্তাহার খাদ্য শস্য সাইলো থেকে উত্তোলন করেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।

অভিযোগ উঠেছে উত্তোলন করা সব গম বিক্রির উদ্দ্যেশ্যে ৬ টি ট্রাকে করে সান্তাহার খাড়িরপুল এলাকার বৈশাখী অটোমেটিক চালকলে লুকিয়ে রাখা হলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। রাত ১১টার দিকে সান্তাহার টাউন ফাড়ির পুলিশের মাধ্যমে জানার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাত ১২টার দিকে বৈশাখী অটোমেটিক রাইস মিল থেকে গম বোঝাই ট্রাক গুলো উদ্ধার করে তাঁর হেফাজতে নেন। হেফাজতে নেয়া ৬ ট্রাক গম উপজেলা সদর এল,এস,ডিতে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন পরিষদে কাবিখার বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ২০১৯-২০ অর্থ বছরে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম তালুকদার ও উপজেলা পরিষদের বিশেষ বরাদ্দ থেকে ১৪৩ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়। গম উত্তোলনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের ১২ নারী ও পুরুষ সদস্যের অনুকূলে উপজেলা খাদ্য বিভাগ গত ২৯ ও ৩০ জুন বিলি আদেশ প্রদান করেন। গত অর্থ বছরে বিলি আদেশ জারী করা হলেও গম উত্তোলন করা হয় সদ্য শুরু হওয়া অর্থ বছরের ৪ জুলাই।

বিলি আদেশ হাতে থাকার সুযোগে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান পিন্টু ও সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক টুলু শনিবার রাতে সান্তাহার সাইলোতে গিয়ে ১৪৩ মেট্রিক টন গম উত্তোলন করে ৬ টি ট্রাকে লোড করেন। বিলি আদেশ পত্রে ওই দুই জনের নাম না থাকা সত্বেও তাদের মাধ্যমে গম উত্তোলন এবং সরকারি গুদামের পরিবর্তে রাতের আঁধারে ব্যক্তি মালিকানাধীন চালকলে লুকিয়ে রাখার কারনে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় হৈ চৈ পড়ে যায়।

সান্তাহার টাউন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আনিসুর রহমান ও উপ পরিদর্শক ওয়াদুদ হোসেন রাত ১১টার দিকে বৈশাখী চালকলে গিয়ে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ,কে,এম আবদুল্লাহ বিন রশিদ রাতেই গম ভর্তি ৬ টি ট্রাক তাঁর হেফাজতে নেন।

তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাঁকে না জানিয়ে প্রকল্পের সুমদয় গম উত্তোলন করেছেন। প্রকল্পের কাজ অর্ধেকও শেষ না হওয়ায় সব গম উত্তোলন করা ঠিক হয় নি। প্রকল্পের কাজ দেখার পর গম বরাদ্দ দেয়া হবে। এ কারনে উত্তোলন করা গম হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

এদিকে কাবিখা প্রকল্পের কোনোটিতে ওই দুই জনপ্রতিনিধির নাম না থাকার পরও গুদাম কর্তৃপক্ষ কেন তাদের মাধ্যমে গম বিলি করলেন এনিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।