সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ইবি উপাচার্য

আর এম রিফাত,ইবি প্রতিনিধি।।
বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কের পাশে ১৭৫ একরের এই ক্যাম্পাস যখন ছিল নানা সমস্যায় জর্জরিত। তখন ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক ড. হারুন- উর- রশিদ আসকারী ১২তম উপাচার্য হিসাবে নিযুক্ত হন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে কোন উপাচার্যই তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ৪ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গদি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন সাবেক উপাচার্যরা। বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে আগামী ২১ আগস্ট ১২ তম উপাচার্য হিসেবে মেয়াদপূর্ণ হতে চলছে ড. রাশিদ আসকারীর। এই দীর্ঘ ৪ বছরে উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক, অবকাঠামোগত ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চার উন্নয়নে তার অবদান কেমন ছিল? এসব বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত সংগ্রহ করেছেন-রাকিব মিয়া রিফাত।
আদনান শাকুর সান, ইংরেজি বিভাগ
জন নিউম্যান বলেছিলেন, “To live is to change, and to be perfect is to have changed often.” সেশন জটের দংশন, প্রাণহীন ক্যাম্পাস, মৃত সাংস্কৃতিক চেতনা ভারে জর্জরিত ১৭৫ একরে প্রগতিশীলতা যখন একটা পরিবর্তনের জন্য ধুঁকে মরছিল, ঠিক তখনই পরিবর্তনের একরাশ স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছিলেন ইংরেজি বিভাগের অন্যতম প্রিয় শিক্ষক ড. হারুন-অর-রশিদ আসকারী স্যার। চারটি বছরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার ঝুড়ি পরিপূর্ণ করার সাথে সাথে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বক্ষেত্রে যে আমূল পরিবর্তনটা ভিসি স্যার এনে দিয়েছেন সেটা সত্যিই অনস্বীকার্য।
এস এম জামিরুল ইসলাম
সত্যি বলতে প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক আশ্চর্যের নাম। সারা বাংলাদেশের যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে শিক্ষার্থীদের জনপ্রিয়তা বিচার করলে সবার সেরা হবেন আমাদের ইবি উপাচার্য।তিনি কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। তিনি দায়িত্ব পাবার পর থেকে যেন ইবি ক্যাম্পাস এক স্বপ্নের রাজ্যে পরিনত হয়েছে। তিনি এবং তার প্রশাসন যেন এক সুতোয় গাথা। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশন জট মুক্ত করেছেন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন করছেন যা চোখে পড়ার মত। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন। প্রতিটি বিভাগ প্রতিটি হল মাঝে মাঝেই পরিদর্শন করেন এবং ছাত্রদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীদের অধিকারটা তিনি বরাবরই সবার আগে দেখেন। ইবি কে অন্তর্জাতিকরণে এবং তার নিজস্ব কাল্পনিক রূপরেখা প্রদানে তিনি এবং তার প্রশাসন নিরলস প্রচেষ্টা অভ্যাহত রেখেছেন।এতে তিনি অনেকটাই সফল। ভিসি স্যার ইবির সকল শিক্ষার্থীদের কাছে হিরো এবং সকল ছাত্রছাত্রীর আইডল। আমি মনে করি, আমি সহ ইবির প্রত্যেকটা শিক্ষার্থী স্যারের মতো একজন মহান ব্যক্তিকে উপাচার্য হিসাবে পেয়ে গর্বিত অনুভব করে।
তাইফুল বায়েজিদ, ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রকৌশলী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণের প্রত্যয়ে ১২তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ৪র্থ সমাবর্তন আয়োজন, ৫৯টি বিভাগ সম্বলিত অর্গানোগ্রাম পাশ, এশিয়া ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর, অবকাঠামোগত উন্নয়নে একনেক সভাকর্তৃক ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প পাশ (যেটি চলমান), সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি প্রদর্শন বিশেষভাবে আমাকে নাড়া দেয়।
শুধু খবরের কাগজে নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন চোখের সামনে দৃশ্যমান দেখে ভিসি স্যারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জেগে উঠে। এছাড়া একজন মিডিয়া পার্সন হওয়ায় যখন তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ণধার হিসেবে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল গুলোতে আসেন,আমার মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য তা এক অন্যরকম ভাল লাগা বিষয়। আজ বিশ্ববিদ্যালয়টি কেবল দেশের নয় বিশ্বের বুকে মাথা উঠিয়ে দাঁড়াতে চাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে গবেষণাকেন্দ্রী, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মনিটরিং এর পাশাপাশি শিক্ষকদের উপর ও মনিটরিং, সুস্থ ছাত্র রাজনীতি, সৃষ্টিশীল ক্যাম্পাস গঠনে বই মেলার সাথে সাথে সায়েন্স ফেয়ারের আয়োজন এসব বিষয় গুলোর লক্ষ্য রাখতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিকীকরণের ধারাটি হবে আরও শক্তিশালী।
শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘ভাইস চ্যান্সেলর’স গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড’ প্রবর্তন।আমি জানি, আমাদের প্রিয় অধ্যাপক ড.হারুন উর রশিদ আসকারী স্যার পরবর্তী বছরগুলোতে উপাচার্যের মেয়াদে থাকলে বাকি কাজ গুলিও অতি দ্রুত সম্পন্ন করবেন তার উন্নত মানসিকতা ও পরিশ্রমী মনভাবকে কাজে লাগিয়ে এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে তুলে ধরবেন বিশ্ব মঞ্চে।
সানোয়ার হোসাইন সজীব, জৈব চিকিৎসা প্রকৌশলী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিকীকরণ ও আন্তর্জাতিকীকরণের লক্ষ্যে এবং শিক্ষা কর্মকান্ডের সার্বিক উন্নতি। যা মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী স্যারের গৃহিত প্রদক্ষেপ বরাবরই প্রসংশার দাবিদার। ইবি ক্যাম্পাসকে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক ক্যাম্পাস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং ক্যাম্পাসকে সমস্ত অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে পরিত্রান দিতে মাননীয় ভিসি স্যারের সুদূর প্রসারী ভাবনার বহিঃপ্রকাশ ইতিমধ্যে আমরা লক্ষ্য করতে পেরেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময়ে উপযুক্ত দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে সব সময় পাশে থেকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে গেছেন। সেশনজটমুক্ত করতে যথেষ্ট তৎপরতা খেয়াল করা যায়। করোনা কালেও যাতে শিক্ষা কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে না যায় সেজন্য মাননীয় ভিসি স্যারের গৃহিত পদক্ষেপ অত্যান্ত সময়োপযোগী এবং বিচক্ষণতার সাক্ষর রাখে।। এমন একজন লেখক, কলামিস্ট, কথাসাহিত্যিক, আলোচক, রাজনীতি বিশ্লেষক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ বহুগুণে গুণান্বিত ব্যক্তিকে উপাচার্য হিসেবে পাওয়া সত্যিই আমাদের সৌভাগ্য ব্যাপার।
মাহমুদুল হাসান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
সেশনজট ও দূর্নীতি যখন চরম শিখরে উন্নিত হয় ঠিক তখনই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভার অর্পিত হয় প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী স্যারের উপর। তার আবির্ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন নতুন প্রাণ খুজে পাই। প্রথমেই শিক্ষা-ব্যবস্থাকে উন্নত করার লক্ষ্যে তিনি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সেশনজট থেকে মুক্তির লক্ষ্যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ম ঘন্টা বৃদ্ধি করেন। এবং ২৪টি বিভাগকে ৩৪টিতে উন্নিত করেন।এছাড়া দেশি ছাত্র ছাত্রী দের পাশাপাশি বিদেশি ছাত্র ছাত্রীদের পড়ার সুযোগ করে দেন। শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চায় তার অবদান চোখে পড়ার মত। এছাড়াও নানা ভিত্তি প্রস্তর স্হাপনের পাশাপাশি ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রয়েছে। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। সার্বিক বিবেচনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়নে তার অবদান অনস্বীকার্য।
জান্নাতুল ইশবা বিথী, আরবী ভাষা ও সাহিত্য
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালবাসার এক অস্তিত্বের নাম ‘ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী ‘স্যার। যার ব্যক্তিত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা শিক্ষার্থীর মনে স্থান করে নিয়েছে। তিনি এমন একজন মহান ব্যক্তি, যাকে দেখে শিক্ষার্থীরা অনুপ্রানিত হয়। এক কথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের জন্য অনন্য আদর্শ তিনি।একজন উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্তর থেকে শুরু করে একাডেমিক, আর্থিক ও অবকাঠামোগত পর্যায়ে তার প্রতিটি পদক্ষেপ চোখে পড়ার মতো। নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় তিনি যেভাবে শৃঙ্খলা বয়ে এনেছেন তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়। তাছাড়াও একজন ব্যক্তি হিসেবে স্যারের বহুমুখী গুণাবলি, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদেরকে মুগ্ধ করে। শিক্ষার্থীদের মনে শ্রদ্ধা এবং ভালবাসার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত আমাদের প্রানপ্রিয় স্যার ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী।
