ফটিকছড়ির হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা সায়েদুল আরেফিন

আতিক নজরুল,ফটিকছড়ি(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি।।
জার্মানের ছোট্ট শহর হ্যামিলিনের কয়েকশ বছর আগের কাহিনী অবলম্বনে গল্প ‘হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা’ পাঠ্য বইয়ে পড়েছি। আজ সেই হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালাকে হার মানালো ফটিকছড়িতে কর্মরত এক সরকারী অফিসার।
প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তার দৈনন্দিন কাজগুলো করলেই তার দায়িত্ব পালন শেষ। কিন্তু তিনি নিতান্ত দায়িত্ব পালনে সীমাবদ্ধ নন। তিনি তাঁর কর্মরত এলাকাটাকে ভালোবেসে ফেলেন শৈশব মাখা নিজের বেড়ে উঠা গ্রামের মতো। এখানকার মানুষগুলো হয়ে উঠে তাঁর যেন আত্মার সম্পর্কীয় কেউ। এদের দু:খে ব্যতিত হয়ে সমবেদনা জানাতে ছুঁটে যান, আবার এদের আনন্দে তিনি মিশে গিয়ে আনন্দে গা ভাসান। রাত দিন তার কাছে সমান। ফটিকছড়ির এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত চষে বেড়ান। গভীররাতেও তিনি সোস্যাল মিডিয়াতে সরব থেকে নানা তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করেন।
জানিনা মানুষটা ঘুমান কবে? আর ঘুমানই বা কতোক্ষণ? করোনার মহামারির শুরু থেকে তার তৎপরতা সবার চোখে পড়েছে। এমপি মহোদয় যখন বিশেষায়িত কোভিড-১৯ হসপিটাল রুপান্তরের ঘোষণা দিলেন মনে হয় না তারপর থেকে এই একটা মানুষ ভালোভাবে পরিবারের সাথে কথা বলেছেন না ভালোভাবে রেষ্ট নিয়েছেন? চিন্তা চেতনায় ছিল শুধু কিভাবে হাসপাতাল রুপান্তর হবে? কিভাবে এতো বিশাল অংকের টাকা সংগ্রহ হবে? তিনি সোস্যাল মিডিয়ার দারস্ত হলেন। স্ট্যাটাসে আহবান জানালেন।
তার এই কর্মস্পৃহা দেখে ফটিকছড়ির এক ঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী তাকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এলেন। একটি টিমের মধ্য দিয়ে হাসপাতাল নিয়ে রাত দিন প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত রাখলেন। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করলেন। হ্যামিলিনের আহবানে আগোপিছু না ভেবে সবাই তার আহবানে তহবিল নিয়ে ছু্ঁটে আসতে লাগলেন। বাকিটা ফটিকছড়ির ইতিহাস। ফটিকছড়ি কোভিড-১৯ হসপিটাল।
এটি হাসপাতাল নয়, যেন ফটিকছড়িবাসীর ভালোবাসার স্তম্ভ! যার যতুটুকু সামর্থ্য, তা নিয়ে ছুঁটে আসছেন হাসপাতালটি রুপান্তরে।এমনি ছুঁটে আসার কারণ একটায়, ‘আমাদের হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালা’ খ্যাত ইউএনও সায়েদুল আরেফিন(S Arefin) মহোদয়ের আহবান। এই একটি নাম মানে আস্থা আর ভরসাস্থল। কালের স্বাক্ষী হয়ে থাকবে এই হাসপাতাল। আর ফটিকছড়ির মানুষের মণিকোঠায় যুগ যুগ ধরে বসবাস করবে একটি নাম’ সায়েদুল আরেফিন’। স্যালুট আপনাকে।
✍মীর মাহফুজ আনাম
টিম লিডার
প্রচারণা টিম, ফটিকছড়ি কোভিড-১৯ হসপিটাল
