মারুফের আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এস,আই হেলাল খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা

সাজ্জাদ চৌধুরী,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।।
মারুফের আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ডবল মুরিং থানার কথিত সিভিল টিমের এস,আই হেলাল খানের বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে কমিটি।
গত ১৬ জুলাই সন্ধায় নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ বাদামতলী মসজিদ গলিতে কিশোর মারুফের আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন আজ জমা দিয়েছে কমিটি। এতে মারুফের আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ডবল মুরিং থানার কথিত সিভিল টিমের এসআই হেলাল খানের বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে কমিটি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরসহ সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে নিজের অধীনস্ত অফিসারকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ দাশকে শোকজ করা হয়েছে। তবে ডবলমুরিং থানার এই সিভিল টিমের কার্যক্রম সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল থাকলেও এতোদিন সিভিল টিমের অপকর্ম ধামাচাপা দিতো কে বা কারা, সেই তথ্যটা অজানাই থেকে গেছে৷ কারণ একজন এসআই এর পক্ষে কখনোই মাসের পর মাস লাগাতার সাদা পোষাকে দ্বায়িত্ব পালন করা সম্ভব ছিলো না৷
সোমবার(২০ জুলাই) বিকেলে সিএমপি কমিশনার মো. মাহবুবর রহমানকের কাছে ১৬ পৃষ্টার এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদের সাথে উপস্থিত ছিলেন কমিটির অন্য দুই সদস্য ডবলমুরিং জোনের সহকারি কমিশনার (এসি) শ্রীমা চাকমা ও নগর পুলিশের সিএসবি শাখার সহকারী কমিশনার (এসি) নুরুল আফসার ভূইয়া।
ডিসি (ডিবি-পশ্চিম) মনজুর মোরশেদ জানিয়েছেন, আমরা কমিশনার স্যারের নির্দেশে যথাযথ ভাবে তদন্ত করে সেই তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনার স্যারকে জমা দিয়েছি৷ তবে সেই তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন ।
সিএমপির শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, সেদিনের ঘটনার দিন এসআই হেলাল খান থানার অফিসার ইনচার্জকে অবগত না করে সাদা পোষাকে বেআইনিভাবে অভিযানে যাওয়ার সত্যতা মিলেছে। এই ঘটনার বিষয়ে ৩২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তসহ জমা দেয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে। সেদিনের অভিযানে আরো দুইজনের নাম প্রকাশ পেলেও তদন্ত কমিটির সরেজমিন সাক্ষ্য গ্রহনের সময় কথিত দুইজনের বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ জানায়নি৷
তদন্ত প্রতিবেদনে থানার অফিসার ইনচার্জ সদীপ দাশকে তার অধীনস্ত অফিসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় লিখিত জবাব দিতে শোকজ করা হচ্ছে । তার জবাবের ওপর ভিত্তি করে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ১৬ পৃষ্টার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। এছাড়াও ভবিষ্যতে এধরণের ঘটনা যাতে না ঘটে পুলিশে যত আইন কানুন মেনে দায়িত্ব পালন করার কথা তা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
প্রথম তদন্ত কমিটি কেন ব্যর্থ ?
এর আগে গত ১৭ জুলাই রাতে করা ডবলমুরিং জোনের এসি শ্রীমা চাকমা ও ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহির হোসেনের নেতৃত্ব গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে নতুন কমিটিকে তদন্তের দায়িত্ব দেন সিএমপি কমিশনার।
জানা যায় ১৬ জুলাই রাতের ঘটনার সময়ে থানার ওসি সদীপ কুমার দাম অসুস্থতা জনীত কারণে থানায় উপস্থিত ছিলেন না৷ সেই সময় থানার ওসি (তদন্ত) জহির হোসেন থানার দ্বায়িত্বে ছিলেন৷ ফলে সংগত কারণে তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে ওসি (তদন্ত) জহির হোসেনর কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আশা করাটাই ভুল ছিলো বলে মনে করছেন সিএমপি’র একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ৷
প্রথম কমিটি প্রতিবেদন প্রত্যাখানের পর গত ১৮ জুলাই ডিসি (ডিবি-পশ্চিম) মনজুর মোরশেদের নেতৃত্বে তিন সতস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিলো৷ এই বিষয়ে জানতে ডবলমুরিং থানার ওসি তদন্ত জহির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ততার কারণে এই বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি৷
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই সন্ধা ৭ টায় নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদের বাদামতলি মসজিদ এলাকায় ডবলমুরিং থানার এসআই হেলাল খানের হাতে নিজ মা বোনের লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় অপমানিতবোধ করে রাগে ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছেন দশম শ্রেণি পড়ুয়া ১৬ বছরের কিশোর সাদমান ইসলাম মারুফ।
