মাইক্রোবাস চালক বেলাল হত্যার রহস্য উদঘাটন,ঘাতক আলমগীর আটক

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।
লালমনিরহাট হাড়ীভাঙা এলাকার মাইক্রো চালক বেলাল হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে আদিতমারি থানা পুলিশ,মুল ঘাতক নিহত বেলালের আপন ভায়রা আলমগীর কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ঠা আগষ্ট) লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা (বিপিএমপিপিএম) প্রেস ব্রিফিং কালে মাইক্রোবাস চালক বেলাল হত্যার রহস্য জট উপস্থাপন করেন।
গ্রেফতার কৃত মূল আসামী আলমগীর হোসেন (৩০) লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোস্তফি এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে,নিহত মাইক্রো চালক বেলাল হোসেনের আপন ভায়রা ভাই।বেলাল হোসেনের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী লাবনী বেগমের সাথে ঘাতক আলমগীর হোসেনের অনৈতিক সম্পর্ক্য ছিল। হঠাৎ ২৪জুন শালীর অন্যত্র বিবাহ হওয়ায় মেনে নিতে পারেন নি আলমগীর হোসেন।সেদিন থেকে বেলাল হোসেন কে হত্যার ছক কষতে থাকেন ।
গত ২৫জুলাই শনিবার রাতে ঘাতক আলমগীর হোসেন ভায়রা বেলাল কে ডেকে নেন, প্রথমে বেলাল কে চেতনা নাশক ঔষধ খাওয়ান,তারপর তাকে নিয়ে যান আদিতমারি উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের যুগিটারী এলাকায়, লালমনিরহাট ও বুড়িমারি মহাসড়কের পাশে নির্জন পাট ক্ষেতে বেলাল হোসেন(৩০)এর গলা কেটে হত্যা করে আলমগীর ও তার সহযোগীরা এরপর তারা সটকে পড়েন।২৭জুলাই স্থানীয়রা লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশ কে খবর দিলে, আদিতমারি থানা পুলিশ অর্ধ গলিত বেলালের লাশ উদ্ধার করে।
২৮জুলাই নিহত বেলালের মা আদিতমারি থানায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।আদিতমারি থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আনিসুর রহমান ঐ দিন থেকে ক্লুলেস বেলাল হত্যার রহস্য জট খুলতে কাজ শুরু করেন।তদন্ত সাপেক্ষে স্ত্রী লাবনী বেগমের কথা অসংলগ্নতা ধরে তাকে গ্রেফতার করেন।তার দেওয়া তথ্য মতে ৩রা আগষ্ট বড়বাড়ি ইউনিয়ন থেকে ঘাতক দুলাভাই আলমগীর হোসেন কে পুলিশ গ্রেফতার করে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক আলমগীর হত্যা কান্ডে ব্যাবহৃত ছুরি,অস্ত্র,কোথায় লুকানো রয়েছে স্বীকার করেন,পুলিশ তা উদ্ধার করে।
বেলাল হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে সকল দায় স্বীকার করেছেন পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিং এই তথ্য অবগত করেন।
নিহত বেলালের মা জরিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের মূল ঘাতক আলমগীর গ্রেফতার হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন,সেই সাথে তার পুত্র বেলাল হত্যার সুষ্ঠ বিচার চেয়েছেন।
প্রেস ব্রিফিং কালে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম,আদিতমারি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম,মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
