স্ট্রোকের কারন

শেখ আল মামুন,সাতক্ষীরা।।

আমাদের দেশে প্রচলিত একটি ধারণা আছে যে স্ট্রোক হৃৎপিণ্ডের একটি রোগ। বাস্তবে এটি মোটেই সত্য নয়। স্ট্রোক মস্তিষ্কের রোগ।

স্ট্রোক কী?

মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্ত ক্ষরনের ফলে অক্সিজেন সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে মস্তিষ্কের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাধ্যমে যে অবস্থা দ্রুত জন্ম নেয় তাকে বলা হয় স্ট্রোক (Stroke)। দেহের রক্তের মাত্র ২% মস্তিষ্ক ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু মস্তিষ্ক কোষসমূহ অত্যন্ত সংবেদনশীল—অক্সিজেন বা শর্করা সরবরাহে সমস্যা হলে দ্রুত এই কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ওই কোষগুলো শরীরের যেই অংশ নিয়ন্ত্রণ করত ওই অংশ গুলো পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে।

স্ট্রোকের ধরন

ইসচেমিক (Ischemic) স্ট্রোক (আঞ্চলিকভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়া)

হেমোরেজিক (Hemorrhagic) স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ)

যেসব কারণ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে—

অনিয়ন্ত্রিত উচ্চরক্তচাপ

ধূমপান, তামাকপাতা, গুল, জর্দা, মাত্রাতিরিক্ত মাদক সেবন।

অতিরিক্ত টেনশন, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তে বেশি মাত্রায় চর্বি বা অতিমাত্রায় কোলেস্টেরলের উপস্থিতি।

অনিয়ন্ত্রিত অলস জীবন যাপন করা, বেশি বেশি চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া, স্থূলতা বা অতিরিক্ত মোটা হওয়া, অতিরিক্ত মাত্রায় কোমল পানীয় গ্রহণ এবং অধিক পরিমাণে লবণ খাওয়া।

কিছু কিছু ওষুধ যা রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কমিয়ে দেয় যেমন অ্যাসপিরিন, ক্লপিডগ্রেল প্রভৃতি ব্যবহারে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

অনেক সময় বংশানুক্রমে বা পূর্বের স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ও দূরবর্তী রক্তনালি বন্ধ হওয়ার কারণেও স্ট্রোক হতে পারে।

যারা আগে থেকে বিভিন্ন রকমের হূদেরাগে ভোগে যেমন: ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ, হার্টের ভাল্বে সমস্যা, অনিয়মিত হূত্স্পন্দন, ইতিপূর্বে মিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়া ইত্যাদি।

স্ট্রোকের লক্ষণসমূহ :

শরীরের কোথাও বা একাংশ অবশ ভাব লাগা কিংবা দুর্বল বোধ করা বা প্যারালাইসিস।

চলাফেরা করতে না পারা, চলাফেরায় ভারসাম্য নষ্ট হওয়া

কথা বলতে সমস্যা হওয়া, বিভ্রান্তিকর অবস্থায় পতিত হওয়া, কথা জড়িয়ে আসা

হঠাত্ তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা, মাথা ঘোরা, বমি বমি বোধ অথবা বমি করা।

স্ট্রোকের ঝুকি কমানোর উপায় কি?

স্বাস্থ্যসম্মত জীবনব্যবস্থা বজায় রাখলে অনেক খানি ঝুকি কমানো যায় :

ব্লাড প্রেসার জানা এবং কন্ট্রোল করা

ধুমপান না করা

কোলেসটেরল এবং চর্বি জাতীয় খাবার না খাওয়া

নিয়ম মাফিক খাবার খাওয়া

সতর্ক ভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা

নিয়ম করে হাটা বা হালকা দৌড়ানো

দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করা

মাদক না নেয়া , মদ্য পান না করা