কমলনগরে মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে বহু গ্রাম প্লাবিত

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি ।।

অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি আঘাত হেনেছে লক্ষ্মীপুরের রামগতিকমলনগর উপজেলার বহু গ্রামে।জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে মানুষের ঘরবাড়ীতে। গত দিনের টানা বৃষ্টির পানি আর মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে তলিয়ে গেছে স্কুল মাদ্রাসা,পুকুরের মাছ কৃষকের ফসলি জমি। প্রতি নিয়তই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আলেকজান্ডার ইউনিয়নের মুন্সিরহাট বালুরচরের প্রায় সকল এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে ঘরের খাট কিংবা চৌকিতে। পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে রান্না ঘরের চুলাও

রামগতি উপজেলার চরগাজী, বড়খেরী, বিবিরহাট, চরগোসাই, চরআলগী, চরমেহার আলেকজান্ডার, বালুরচর, মুন্সিরহাট, চর আবদুল্যাহ এবং কমলনগরের লুধুয়া, সাহেবেরহাট, চর মার্টিন, পাটারীরহাট, ফলকন, মতিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকা জোয়ারের পানিতে ভাসছে। রাস্তাঘাট ঠুবে লোকালয়ে প্রবেশ করছে পানি

কমলনগরের চর ফলকন, চর কালকিনি, চর লরেন্স, নবীগঞ্জ, নাছিরগঞ্জ রামগতি উপজেলার চর আবদুল্লাহ, চর গজারিয়া, চর গাজী, চর আলগী, বড়খেরী, তেলীর চর, আলেকজান্ডার, বালুর চর, সুজন গ্রাম, জনতা বাজার, সেবা গ্রামসহ অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। নদীর তীর থেকে এসব এলাকার প্রায় কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। এতে প্রায়লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে নদী সংযুক্ত খাল, পুকুর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয়প্রতিষ্ঠান রাস্তাঘাট হাঁটু পরিমাণ পানিতে ডুবে আছে। শত শত বসতঘরে পানি ঢুকে ক্ষতি হয়েছে আসবাবপত্র বিভিন্ন মালামাল। এতে মেঘনা উপকূলীয় মানুষগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে

ভুক্তভোগীরা মেঘনায় বেড়ীবাঁধ না থাকাকে দায়ী করেছেন। সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে উপকূলবাসীকে রক্ষায় দ্রুত বেড়ীবাঁধ দেয়ার দাবি জানান। অস্বাভাবিক জোয়ারে লক্ষ্মীপুরের রামগতিকমলনগর উপজেলার প্রায় ৩০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ নদীর পানি৪ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হয়ে হাজার হেক্টর জমির ফসলসহ গবাধিপশু, মুরগির পোল্ট্রি খামার শতাধিক মাছের ঘের ক্ষতির শিকার হয়েছে। গত দিনের টানা বৃষ্টি আচমকা মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে বেড়ি বাঁধ না থাকায় জোয়ারে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয়দের

সূত্র জানা যায়, মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গনে নদীতে বিলিন হয়ে গেছে বেড়িবাধ। তাই অরক্ষিত হয়ে পড়ে এসব এলাকা। হঠাৎ গত দিনের বৃষ্টি আট মেঘনা নদীর জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকের চেয়ে থেকে ফুট বেড়ে যায়। এসময় তীব্র বাতাস স্রোতে নদীর পানি হুহু করে ঢুকে পড়ে উপকূল এলাকায়। মুহূর্তেই বিস্তীর্ণ জনপদ পানির স্রোতে ভেসে যায়।