কোষ্ঠকাঠিন্য ( Constipation )

শেখ আল মামুন,সাতক্ষীরা ।।
শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে পেট পরিষ্কার রাখা জরুরি। কিন্তু আমাদের অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে দেখা দিতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য।
কোষ্ঠকাঠিন্য একটি বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। অনেকেই টয়লেটে গিয়ে অনেক্ষন বসে থাকেন, কিন্তু পেট পরিষ্কার হয় না। মলত্যাগ যদি সপ্তাহে তিনবারের কম হয়, অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও মলত্যাগ না হয়,বা পরিমানে খুব কম হয় অথবা মল অস্বাভাবিক রকমের শক্ত বা শুকনো হয়, তাহলে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রধান কারন। তাই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণঃ
১.  শাকসবজি ও ফলমূল কম ও আঁশজাতীয় খাবার কম খেলে।
২. নিয়মিত ফাস্ট ফুড বেশি পরিমাণে খাওয়া।
২. পানি কম খেলে এবং তরল খাবার কম খাওয়া।
৩. সময়মতো মলত্যাগ না করে চেপে রাখা।
৪. পরিশ্রম, হাঁটা-চলা বা ব্যায়াম একেবারেই না করা।
৫. ডায়াবেটিস হলে;
৬. বিভিন্ন অসুস্থতায় অনেকদিন বিছানায় শুয়ে থাকলে।
৭. অতিমাত্রায় দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপে থাকলে।
কোষ্ঠকাঠিন্যের উপসর্গ ও লক্ষণঃ
মূল উপসর্গটাই হলো শক্ত ও কঠিন মল। এর সঙ্গে আরও কিছু উপসর্গও থাকতে পারে।
১. মলত্যাগে অনেক বেশি সময় লাগা।
২. মলত্যাগে অনেক বেশি চাপের দরকার হওয়া।
৩. অনেক্ষন ধরে মলত্যাগ করার পরও অসম্পূর্ণ মনে হওয়া।
৪. অনেক সময় ধরে মলত্যাগ করার পরও পূর্ণতা না আসা।
৫. মলদ্বারের আশপাশে ও তলপেটে ব্যথার অনুভব করা
কোষ্ঠকাঠিন্য চিকিৎসা না করা হলে যে সমস্যা হতে পারেঃ
১. মল ধরে রাখার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
২. পাইলস হতে পারে এছাড়াও ফিস্টুলা ও এনাল ফিশার বা গেজ রোগ হওয়া।
৩. রেকটাল প্রোলাপস মানে মলদ্বার বাইরে বের হয়ে যাওয়া।
৪. খাদ্যনালীতে প্যাঁচ লেগে পেট ফুলে যেতে পারে
৫.খাদ্যনালীতে আলসার হতে পারে।
৬. প্রস্রাব বন্ধ হতে যেতে পারে।
৭. কলোরেকটাল মানে মলাশয়ের ক্যান্সার হতে পারে।