গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী নুরুমিয়া নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।।

লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী নুরু মিয়া কে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার(২৪ অক্টোবর) তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে আদালত।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরহাদ মন্ডল (তদন্ত)নেতৃত্বে কালীগঞ্জ থানার একটি অভিযানিক দল শুক্রবার ভোরে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুরু মিয়া ওরফে নুরু(৪০) কে গ্রেফতার করে।ধর্ষন কান্ডের পর থেকে ধর্ষক নুরু পালিয়ে গিয়ে ফতুল্লায় অবস্থান করছিলো।গন ধর্ষনে আটক নুরু মিয়া কালিগঞ্জ থানার তালুক বানীনগর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে।ইতিমধ্যে ধর্ষন মামলায় অভিযুক্ত চার নম্বর আসামী রকি কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

গণধর্ষণের স্বীকার ভুক্তভূগী কিশোরী ১০ অক্টোবর কালীগঞ্জ থানায় ধর্ষণের সাথে জড়িত সাতজন এবং অজ্ঞাত তিনজন সহ মোট দশজনের নামে মামলা দায়ের করেন।০৬ই অক্টোবর মামার বাড়ী বেড়াতে এসে কাকিনা রেল স্টেশনে বাদাম কিনতে ট্রেন থেকে নামে ধর্ষণের স্বীকার কিশোরী, নামার পর স্টেশনের প্লাটফর্মে বখাটে রকির সাথে কথা হয়,ট্রেন ছেড়ে দিলে কৌশলে রকি মেয়েটিকে পরে পৌছায় দিবে বলে ট্রেন থেকে নামিয়ে রাখে।পরে পার্শ্ববর্তী স্যালো ঘরে আটকে রেখে রাতে কয়েক জন বখাটে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে।ভোরের দিকে মেয়েটিকে একটি ট্রাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তুলে দিতে চাইলে মেয়েটি বেঁকে বসে,সকালে বখাটে রকির বাড়ীতে কিশোরী বিচার নিয়ে গেলে বখাটে রকি ঘটনা অস্বীকার করে কিশোরীটিকে মারধর করে।কিশোরী নিরুপায় হয়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশের বাড়ীতে আশ্রয় নেয়।

স্থানীয় রিক্সা শ্রমিক নেতা সোলায়মান আলী, ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম,অনলাইন পত্রিকার সংবাদাতা মিলে কিশোরী ধর্ষন কান্ডে ষাট হাজার টাকা জরিমানা করে গোপনে দফারফা করে, মেয়েটিকে দুই হাজার টাকা হাতে দিয়ে পরেরদিন গাড়ীতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করলে,মেয়েটি কালিগঞ্জ উপজেলার প্রেসক্লাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের অবহিত করে।কালিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকগন থানায় বিষয়টি অবহিত করলে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়।

কিশোরী ধর্ষন কান্ডে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা গুরুত্ব সহকারে আসামী গ্রেফতারে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ কে নির্দেশ দেন।