শিক্ষার্থীদের দশ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে, এই গুজবে অনলাইন দোকানে উপচে পড়া ভীড়

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।।

করোনা পরবর্তী ছাত্র-ছাত্রীদের সরকার থেকে দশ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে,এই গুজবে লালমনিরহাট জেলার সকল অনলাইন দোকানে অভিভাবক,ছাত্র/ছাত্রীদের উপচে পড়া ভীড়।এই সুযোগে এক শ্রেনীর অসাদু ব্যাবসায়ী প্রতিটি আবেদনে হাতিয়ে নিচ্ছে এক থেকে দেড়শত টাকা।

রবিবার ৭মার্চ লালমনিরহাট সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, শত শত ছাত্র ছাত্রী অনুদানের আবেদন করার জন্য ইন্টারনেটের দোকানে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছে।তাদের সাথে কথা বলে জানা যায় সরকার ছাত্র/ছাত্রীদের দশ হাজার করে টাকা অনুদান দিবে এজন্য তারা আবেদন করতে ইন্টারনেট সার্ভিসের দোকানে এসেছেন,কিন্তূ যে ওয়বসাইটে এই আবেদন করতে হবে সেটি ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যাম থাকায় শত শত ছাত্রছাত্রী অপেক্ষামান।এদিকে ইন্টারনেট সেবা দান কারী প্রতিষ্ঠান গুলো এই সুযোগে প্রতিটি আবেদনে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে,একটি আবেদন প্রতি ১৫০/২০০টাকা পর্যন্ত নেবার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।প্রতিটি আবেদনের সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন পত্র জমা দিতে বলায়,কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রত্যায়ন পত্র বাবদ টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন বলেন, আমরা সরকার থেকে এমন কোন নোটিশ পাইনি, যেখানে ঢালাও ভাবে ছাত্রছাত্রীদের দশ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে।কোভিড ১৯এর জন্য তিনটি ক্যাটাগরিতে অনুদান দেওয়া হবে এমন একটি চিঠি শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে এসেছে,সেটার আবেদন পাঠানোর সময় সীমা শেষ হওয়ায় আগামী ১৫মার্চ পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কোদালখাতা মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারেন্টেড আবু তাহের জানান,করোনার কারনে রুগ্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অসুস্থ শিক্ষক,রুগ্ন ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে অনুদানের আবেদন চাওয়া হয়েছে,যেখানে ছাত্রছাত্রীদের স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যায়ন পত্র লাগবে।কিন্তূ কে কাহারা গুজব ছড়িয়েছে ছাত্র ছাত্রীদের দশ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে,ফলে আবেদন করার জন্য হিড়িক পড়েছে ।,অন্যদিকে সার্ভার জ্যাম থাকায় ছাত্রছাত্রীরা আবেদন করতে পারছেন না ,ফলে আবেদন করার জন্য সময় সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সকল ছাত্রছাত্রীদের অনুদান দেওয়া হবে এমন তথ্যের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষক গন এ বিষয়ে কেউ জানেন না।এমন গুজবের পিছনে কোন অশুভ শক্তির সম্পর্ক্য রয়েছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখার জন্য বলেছেন অনেকেই।