জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে লেবুখালী ফেরিঘাটের পল্টন

মো.সুমন মৃধাঃ দুমকি(পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জো’র প্রভাবে পটুয়াখালীর পায়রা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে গেছে লেবুখালী ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে। হাটুপানিতে গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কসহ আভ্যন্তরীর ৬ রুটের যানবাহনসহ যাত্রী পারাপারে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার প্রভাবে গত সোমবার রাত থেকেই পায়রা নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ মে) সকাল ১০টা থেকে হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়া প্রবাহের সাথে সাথে ফুঁসে ওঠা পায়রা নদীর জোয়ারের পানিতে বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের লেবুখালী ফেরীঘাটের উভয় পাড়ের গ্যাংওয়ে তলিয়ে গেছে।
দেড় থেকে দু’ফুট পানিতে তলিয়ে থাকায় বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুণা ও কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন রুটের চলাচলকারি যাত্রীবাহি বাস-মিনিবাস, মালবাহি ট্রাক, পিকআপ-ভ্যান সহ সকল ধরণের যানবাহন তলিয়ে থাকা গ্যাংওয়ে দিয়ে ফেরীতে ওঠা-নামায় দুর্ভোগে পড়েছে।
ছোট ছোট যানবাহন পারাপারে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। গ্যাংওয়ে তলিয়ে থাকায় প্রাইভেটকার, মাইক্রো ও মুমূর্ষু রোগীবাহী এ্যাম্বুলেন্স পন্টুনে ওঠতে না পারায় আটকে রয়েছে।
পবিপ্রবির এ্যাম্বুলেন্স চালক মো: আলম মিয়া বলেন, বরিশাল মেডিকেলে রুগী নামিয়ে দিয়ে দ্রুত ফেরত এসে দেখি গ্যাংওয়ে তলিয়ে গেছে। অনেক কষ্টে ফেরী পারাপার হয়েছি। নদীর পানি ক্রমশ: বাড়ছে। আমার পেছনের অনেক গাড়ী পারের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে।
একই অভিযোগ স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল কোং পিকআপ ভ্যান চালক মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, আটকে পড়া যানবাহনগুলো ভাটার অপেক্ষায় আছে। টানা ৩/৪ঘন্টা অপেক্ষার পর ভাটায় নদীর পানি কমলে পারাপার হতে পারবেন বলে আশা করছেন। এভাবে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের চালক সহকারি ও যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
লেবুখালী ফেরীঘাট সুপারভাইজার মো: আফজাল হোসেন বলেন, পায়রা নদীতে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন ফেরীতে ওঠা-নামায় বিঘ্নের সৃষ্টি করছে। ভাটায় নদীর পানি কমে গেলে ফেরী পারাপার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।এদিকে ঝড়ো হাওয়ার গতি ক্রমশ: বেড়ে যাওয়ায় ও পায়রা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মাঝে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের আতংক বিরাজ করছে।
