সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত ঘুম ও সুস্বাস্থ্য

শেখ আল মামুন,সাতক্ষীরা।।
মহামারির এই লকডাউন সময়ে আমাদের মধ্যে অনেকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র বন্ধ। আর এজন্য প্রায়ই আমরা বাসায় অবস্থান করছি। ফলে এসময়ে আমাদের প্রতিদিনের রুটিনে সব থেকে বেশি যে অনিয়ম চোখে পড়ছে তা হল ঘুম। পরেরদিন সকালে কাজে বা স্কুল কলেজে যাবার কোন তাড়া নেই, যার ফলশ্রুতিতে রাতে ঘুমানোর কোন চিন্তাও দেখা যাচ্ছে না এবং আমরা নিজের অজান্তেই কতো ক্ষতি করছি তা হয়তবা ভেবেই দেখছি না। অথচ কমবেশি সবাই জানি পর্যাপ্ত ঘুম সুস্বস্থ্যের জন্য কতটা জরুরি।
ঘুম মানব জীবনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময় নিয়ে নেয়। তা কেবল আমাদের প্রতিদিনের কাজকর্মের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এর অনেকগুলি সিস্টেমিক শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্য জনিত সুবিধা রয়েছেঃ
ঘুম আমাদের বিপাক প্রক্রিয়ার সহায়ক
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
স্থিতিশীল মেজাজকে উৎসাহ দেয়
কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে
আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা / কার্যকারিতা বাড়ায়
জ্ঞান ধারণাকে বৃদ্ধি করে
দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে আমাদের সহায়তা করে
মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপের জন্যও ঘুম জরুরি।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘুম বিশেষজ্ঞ এবং নিউরোলজিস্ট মার্ক উ (এমডি, পিএইচডি) বলেছেন “ঘুম এমন একটি সময়কাল যখন আমাদের মস্তিষ্ক জীবনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কার্যক্রমে নিযুক্ত থাকে – যা জীবন যাত্রার মানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। জনস হপকিন্সে করা একটি গবেষণা অনুসারে, আমাদের মস্তিষ্কের প্লাস্টিসিটি (Brain Plasticity) ঠিক রাখার জন্য এবং মস্তিষ্কের কোষ থেকে বর্জ্য পদার্থগুলো অপসারণে ঘুম খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভুলে গেলে চলবে না ঘুমের সময় আমাদের দেহ অবিশ্বাস্য কাজ করে। মনে রাখবেন, প্রতি রাতে সাত ঘন্টার কম ঘুমানো আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের দেহকে সুস্থ রাখা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনমান ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় শক্তি এবং ফোকাস পাবার অন্যতম মূল চাবিকাঠি হল ঘুম। পর্যাপ্ত ও সঠিক সময়ের ঘুমকে অবহেলা করে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা কোনভাবেই সম্ভব না।
সুতরাং, আসুন আমরা আমাদের প্রতিদিনের ঘুমের প্রতি আরও যত্নশীল হই।
